৭২ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের রেকর্ড এক ভারতীয় ক্রিকেটারের

৭২ বছর বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকের রেকর্ড এক ভারতীয় ক্রিকেটারের

সৌম্যজীৎ চ্যাটার্জী: ক্রিকেট খেলায় এখন ফিটনেস একটা বড় ফ্যাক্টর। বড় রান করতে বা বড় রান তাড়া করতে কিংবা ঝাঁপিয়ে পড়ে ফিল্ডিংয়ের জন্য ফিট থাকা অতি আবশ্যক। জাতীয় দলে সুযোগ পেতেও এখন ফিটনেসের পরীক্ষা ইয়ো ইয়ো টেস্টে উত্তীর্ণ হতে হয়। ফিট থাকতে ক্রিকেটাররা এখন মাঠের চেয়ে বেশি সময় জিমে কাটান। বয়স বাড়তে শুরু করলেই ফিটনেসও স্বাভাবিক নিয়মেই কমতে থাকে। তাই বয়স বাড়ার সাথে সাথে সেই ফিটনেস ধরে রাখাটাও এখন একটা বড়ো চ্যালেঞ্জ ক্রিকেটারদের জন্য। তাই এখন ৭২ বছর বয়সে একজন ক্রিকেট খেলবে, এটা কল্পনাও করা যায় না।

রাজা মহারাজ সিং
                  রাজা মহারাজ সিং

কিন্তু অতীতে এমনটা ছিল না। যেহেতু তখন বিসিসিআই-এর হাতে বেশি টাকা ছিল না, এবং রাজা মহারাজারা ক্রিকেট খেলার পিছনে সমস্ত টাকা ঢালতেন। তাই সব সিদ্ধান্তও নিতেন তাঁরাই। শোনা যায়, ১৯৩২ সালে ভারতের প্রথম ইংল্যান্ড ট্যুরে সি কে নাইডু-কে দলের অধিনায়ক হিসেবে মেনে নিতে পারেননি সেই দলের অধিকাংশ ক্রিকেটার। কারণ তিনি কোনও প্রদেশের রাজা ছিলেন না। পরে পাটিয়ালার রাজা ভুপিন্দর সিংয়ের আদেশে সব খেলোয়াড়রা কর্ণেল নাইডু-কে অধিনায়ক মানতে বাধ্য হন।

১৯৫০ সালের ২৫ নভেম্বর মুম্বইয়ের প্রথম ভারতীয় গভর্নর রাজা মহারাজ সিং ৭২ বছর বয়সে ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটে অভিষেক করেন। তাঁর খেলা ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচের শেষ দিনে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর ১৯৪ দিন। সবচেয়ে বেশি বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক এবং সবচেয়ে বেশি বয়সে একটি প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ খেলা- দুটি রেকর্ডেরই মালিক তিনি। ৬০ বছর ২৬৯ দিন বয়সে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেক করে দ্বিতীয় স্থানে আছেন কর্নেলিস ভেলস। অপরদিকে বয়সের হিসেবে দ্বিতীয় স্থানে থাকা কর্ণেল সি কে নাইডু ৬৮ বছর ৪ দিন বয়সে তাঁর শেষ প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট ম্যাচ খেলেছিলেন।

ওয়ারেল, পেইন্টার, গিম্ব্লেট, লেকারদের মতো খেলোয়াড়ে সমৃদ্ধ একটি কমনওয়েলথ একাদশ দল ১৯৫০ সালে ভারতে একটি ট্যুর করতে এসেছিল। ট্যুরের ১৩তম ম্যাচটি মুম্বইয়ের ব্র‍্যাবোর্ণ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এই ম্যাচে বোম্বে গভর্নর একাদশ দলকে অধিনায়কত্বও করেছিলেন বোম্বের এই প্রথম ভারতীয় গভর্নর।

এই ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে মহারাজ সিং মাত্র চার রান করে লেকারের বলে এমেটের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হয়ে যান। এই সময়ে মহারাজ সিং এবং লেকারের বয়সের পার্থক্য ছিল প্রায় ৪৪ বছর। যদিও বোলার ও তার শিকারের বয়সের পার্থক্য এটিই সর্বাধিক নয়।

মহারাজ সিং ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫২ সাল পর্যন্ত বোম্বের গভর্নর থাকাকালে তিনটি দল ভারতে ট্যুর করতে এসেছিল। এই তিনটি দলের বিরূদ্ধেই তিনি বোম্বে গভর্নর একাদশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। এর মধ্যে ১৯৫০ সালে খেলা শেষ ম্যাচটিকেই একমাত্র ফার্স্ট ক্লাস ক্রিকেটের স্বীকৃতি দেওয়া হয়৷ এই ম্যাচটিতে বোম্বে গভর্নর একাদশ এক ইনিংসে হেরে গিয়েছিল।

রাজা মহারাজ সিং ক্রিকেটার হিসেবে সফল না হলেও, তাঁর রাজনৈতিক কেরিয়ার খুবই উল্লেখযোগ্য। তিনি বোম্বের গভর্নর ছাড়াও মহারাজ হরি সিংয়ের শাসনকালে জম্মু ও কাশ্মিরের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এছাড়াও যোধপুরের দেওয়ান হিসেবে তিনি কিছু সময় কাটিয়েছিলেন।

শেয়ার করুন

0Shares
0
তখন মাঠ ময়দান