বিলুপ্তির মুখে ভারতীয় হাঙরের ১১%

বিলুপ্তির মুখে ভারতীয় হাঙরের ১১%

টিম যুগান্তর: সম্প্রতি আন্তর্জাতিক পরিবেশরক্ষণ সংঘটন IUCN এর (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচার) একটি মূল্যায়ন অনুসারে ভারতীয় উপমহাদ্বীপ সংলগ্ন এলাকায় হাঙর, শংকর মাছ ও চিমেরা জাতীয় প্রাণীদের অবস্থা যথেষ্ট সঙ্কটজনক বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই রিপোর্ট অনুসারে ভারতীয় উপমহাদ্বীপ সংলগ্ন ইন্ডিয়ান এক্সক্লুসিভ ইকোনোমিক জোন অর্থাৎ ভারতের উপকূলীয় অঞ্চল থেকে সমুদ্রের যতখানি অংশ ভারতীয় সরকারের অধিকারাধীন, সেই অংশে খুঁজে পাওয়া ১৭০টি সামুদ্রিক প্রজাতির মধ্যে প্রায় ১১ শতাংশ অর্থাৎ ১৯টি প্রজাতি বর্তমানে বিলুপ্তপ্রায়।

ডঃ কে কে বিনেশ, যিনি জুলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার বিজ্ঞানী ও IUCN এর সদস্য, তিনি জানান যে এই ১৯টি প্রজাতি চরম বিপন্ন বা Critically Endangered (CE) পর্যায়ের। এদের মধ্যে পাঁচটি প্রজাতির গিটার ফিশ, সাতটি প্রজাতির হাঙর, দুটি প্রজাতির স’ফিশ, চারটি প্রজাতির ওয়েজ ফিশ ও একটি প্রজাতির সদ্য আবিষ্কৃত শংকর মাছ যার বিজ্ঞানসম্মত নাম Maculabatis arabica। তিনি আরও জানান যে ১৭০টি প্রজাতির মধ্যে আরও আলাদা ৩০টি প্রজাতির সামুদ্রিক প্রাণীদের বিপন্ন হিসেবে(EN) হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে হওয়া একটি মূল্যায়নের ফলাফল দেখলে বেশ বড় মাপের পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। এ বিষয়ে তিনি জানান যে আগের বারেও এই সংখ্যাটি ৩% এর কাছে হলেও এই বছরে তা বেড়ে প্রায় ১১% এর কাছে চলে গিয়েছে। এছাড়া ২০১৪ সালে EN চিহ্নিত প্রাণীদের সংখ্যা ছিল ৫% যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৮%!
এই রিপোর্ট অনুসারে ইন্ডিয়ান শোয়েলশার্ক Cephaloacyllium silasi যা আন্দামান নিকোবর, কেরল ও শ্রীলঙ্কার উপকূলীয় অঞ্চলের গভীর জলের হাঙর মাছ, তাদের সংখ্যা কমেছে ভয়ঙ্কর ভাবে। এই প্রজাতির হাঙরগুলিকে চরম সঙ্কটাপন্ন প্রজাতিগুলির মধ্যে ধরা হয়েছে। এই হাঙরগুলি সাধারণত জলের ১০০-৫০০ মিটারের মধ্যে থাকার কারণে প্রায়শই এরা ট্রলারের জালে ধরা পড়ে। এছাড়া স্মুথ হ্যামারহেডশার্ক Sphyrna lewini এবং সামুদ্রিক হোয়াইট টিপ সার্ক Carchahinus longimanus এই দুটি প্রজাতিকে আগের বারে সঙ্কটজনক ধরা হলেও এবারে তাদের পদোন্নতি হয়েছে চরম সঙ্কটজনক হিসেবে। এছাড়া শার্ক লিভার অয়েল বানানোর জন্য ডোয়ারফ গুলফার শার্ক-এর সংখ্যাও কমেছে বিপজ্জনক ভাবে। এদেরকেও চরম সঙ্কটজনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে এই প্রাণীদের সংখ্যা এমন আশঙ্কাজনক ভাবে হ্রাস পাওয়ার কারন টার্গেট ফিশিং অর্থাৎ যখন কোনও একটি নির্দিষ্ট মাছ ধরবার উদ্দেশ্যেই ট্রলার থেকে জাল ফেলা হয় ও বাইক্যাচ অর্থাৎ টার্গেট ফিশ ছাড়াও অন্যান্য মাছ যেগুলি ধরা হয়। ডঃ বিনেশ জানান যে , এই ধরণের গভীর সমুদ্রের মাছের সংখ্যা সাধারণত ভারতে খুবই কম আর সেই কারণেই এই সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে এত গুরুতরভাবে। এছাড়া ৩৮টি প্রজাতি বিপন্ন (VU), ২৭টি প্রায়-বিপন্ন(NT) ধরা হয়েছে।
IUCN এর বিজ্ঞানী ডঃ চন্দ্র জানান যে ভারতের সামুদ্রিক সম্পদের অনেকটাই এই ধরণের সামুদ্রিক প্রাণীদের উপরে নির্ভর করছে আর এই প্রাণীগুলি সংরক্ষণ অবিলম্বে প্রয়োজন ও তার জন্যে চাই উপযুক্ত পরিমাণ তথ্য ও তার সঠিক মূল্যায়ন কারণ এই ধরণের সামুদ্রিক প্রাণীদের রক্ষা করতে পারলেই ভারতীয় উপমহাদ্বীপের বাস্তুতন্ত্রকে রক্ষা করা যাবে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
জ্ঞান বিজ্ঞান সাম্প্রতিক