ডিকশনারি সম্পর্কিত দশটি অজানা তথ্য

ডিকশনারি সম্পর্কিত দশটি অজানা তথ্য

টিম যুগান্তর: ডিকশনারি বা শব্দকোষ সম্পর্কে আমাদের প্রত্যেকেরই ধারণা আছে বলা চলে। প্রতিদিনের জীবনে কখনও না কখনও আমরা ডিকশনারির সাহায্য নিয়ে থাকি। ইংরেজি ভাষার শব্দকোষের ইতিহাস নিয়ে হয়তো তেমন ধারণা আমাদের নেই। ১৬০৪ সালে প্রথম ইংরেজি ভাষার ডিকশনারি প্রকাশিত হয়েছিল। রবার্ট কৌড্রে দ্বারা রচিত এই ডিকশনারি “টেবল অ্যালফাবেটিকায়” ছিল প্রায় ৩০০০ শব্দ। যদিও এই ডিকশনারিতে কোনও শব্দের সংজ্ঞা ও বিবরণ খুব বেশি ছিল না। এই বইটি রচনার পিছনে লেখকের উদ্দেশ্য ছিল পাঠকদের কাছে আরও বেশি নতুন নতুন শব্দ পৌঁছে দেওয়া। এবারে জেনে নেওয়া যাক ডিকশনারি সম্পর্কিত কিছু অজানা তথ্য।

১) ইংলিশ ডিকশনারির সবচেয়ে জটিল শব্দ হল ‘সেট’ (Set) যার প্রায় ৪৩০টি ভিন্ন অর্থ সম্ভব! ১৯৮৯ সাল থেকে ২০৩৭ সাল পর্যন্ত অক্সফোর্ড ইংলিশ ডিকশনারি অনুযায়ী এই শব্দটি এক নম্বর স্থান ধরে রাখবে। ২০৩৭-এর এডিশনে ‘রান'(Run) শব্দটি এক নম্বর স্থানে চলে আসবে এবং তখন এই শব্দটির ৬৪৫টি ভিন্ন সংজ্ঞা সম্ভব হবে।

২) ইংলিশ শব্দের ডিকশনারিতে সচরাচর ব্যবহৃত সবচেয়ে বৃহৎ শব্দ হলো
“Pneumonoultramicroscopicsilicovolcanoconiosis” যা একটি ফুসফুস জনিত ব্যাধি। এই শব্দটিতে প্রায় ৪৫টি বর্ন রয়েছে। কিন্তু সর্ববৃহত ইংরেজি শব্দ হলো একটি প্রোটিন ‘টিটিন’ এর বিজ্ঞানভিত্তিক নাম যা প্রায় ১৮৯৮১৯ বর্ন দিয়ে গঠিত।

৩) ইংরেজি শব্দের ‘নন-কয়েনেড ,নন-টেকনিক্যাল’ শব্দ হল ২৮টি বর্ণ যুক্ত ‘অ্যান্টিডিসএসট‍্যাব্লিশমেন্টারিয়ানিজম” ( Antidisestablishmentarianism)। এই শব্দের প্রবর্তন হয়েছিল ১৯ শতকের ইংলিশ চার্চের উদ্দেশ্যে। এছাড়া প্রতিদিনের ব্যবহৃত ভাষায় একটি ২১টি বর্ন যুক্ত শব্দ রয়েছে ‘ইনকমপ্রিহেনসিবিলিটি’ (Incomprehensibilities)।

৪)প্রথম অক্সফোর্ড ডিকশনারি লিখতে সাহায্য করেছিলেন একজন সৈনিক যিনি আমেরিকার সিভিল ওয়ারে অংশগ্রহণ করেছিলেন। উইলিয়াম চেস্টার মাইনর নামের সেই ব্যক্তি যুদ্ধের কারণে স্ক্রিৎজোফেনিয়ায় ভুগছিলেন এবং ১৮৭২ সালে ভুলবশত তিনি এক নিরপরাধ মানুষকে খুন করে ফেলেন আততায়ী সন্দেহে। চেস্টার এই কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেন এবং তাকে ব্রডমুর ইনসেন অ্যাসাইলামে পাঠানো হয় এবং সেখানে থাকাকালীন তিনি অক্সফোর্ড ডিকশনারির ‘মেল-ইন ভলিনটিয়ার” হিসেবে যোগ দেন। তাঁর কাজ ছিল ডিকশনারির সম্পাদক জেমস মুরেকে ডিকশনারির জন্যে শব্দের যোগান দেওয়া। জেমস মুরে সাহেব পরে জানান তার ভলিনটিয়ারদের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছিলেন উইলিয়াম চেস্টার মাইনর। মাইনরের যোগদানের কুড়ি বছর পরে জেমস মুরে সাহেবের সাথে মাইনর দেখা হয় অথচ মুরে সাহেব জানতেন না যে মাইনর সংশোধনাগারে ছিলেন স্ক্রিৎজোফেনিয়ার কারণে।

৫) প্রতিবছর প্রায় ১০০০ এর ও বেশি শব্দ সংযোজিত হয় ডিকশনারিতে। ২০২০ সালে ম্যারিয়েম ওয়েবস্টার ডিকশনারি প্রায় ৫৫০ টি নতুন শব্দ যোগ করেছে তাদের ডিকশনারিতে। এর মধ্যে অবশ্যি বেশ কিছু ভুল শব্দ আছে যেগুলি ইচ্ছেকৃতভাবেই ডিকশনারি কোম্পানি দ্বারা সংযোজিত হয়। এবং এই শব্দগুলি যোগ করা হয় কপিরাইট বজায় রাখতে। যদি অন্য কোনও কোম্পানি বিনা অনুমতিতে সেই ডিকশনারি থেকে শব্দ সংগ্রহ করে এবং তাদের অজান্তে যদি সেই ভুল শব্দ তাদের ডিকশনারিতে প্রিন্ট হয় তাহলে সাথেসাথেই কপিরাইট আইনে মামলা করতে পারে উক্ত কোম্পানি।

৬) আমেরিকান ইংলিশ ও ব্রিটিশ ইংলিশের মধ্যে বানানের হেরফের দেখা গিয়েছিল আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার পর। ১৭৮৯ সালে আমেরিকার স্বাধীনতাকামী লেখক নোয়া ওয়েবস্টার ব্রিটিশ ইংলিশকে অত্যন্ত নীতিবাগীশ বলে উল্লেখ করেন এবং ১৮০৬ সালে ব্রিটিশ ও আমেরিকান ইংলিশের মধ্যে পার্থক্যকরণের উদ্দেশ্যে ‘কম্পেনডিয়াস ডিকশনারি অফ ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ’ নামে একটি বই লেখেন। তিনি সেই বইতে ইংরেজি শব্দের বহু বানান পরিবর্তন করে তার মার্কিনিকরণ করেন।

৭) ইংরেজি ভাষায় যে শব্দের সবচেয়ে বেশি ভুল ব্যবহার হয়ে থাকে তা হল ‘আয়রনিক'(Ironic)। সময়ের সাথে এই শব্দের অর্থ পরিবর্তিত হয়েছে।

৮) ১৯৩৪ সালে ম্যারিয়েম ওয়েবস্টার দ্বারা সম্পাদিত ডিকশনারিতে একটি অর্থহীন শব্দের সংযোজন ঘটেছিল যা একেবারেই কপিরাইটের কারণে সংযোজন করা হয়নি। একটি শব্দের সংক্ষিপ্তকরণের জন্যে ব্যবহৃত এই শব্দটি ভুলবশত ছেপেছিল সেই ডিকশনারিতে যা ধরা পড়েছিল ৫ বছর পর।

৯) তেমনি ১৯৮৮ সালের অক্সফোর্ড ডিকশনারিতে ‘বন্ডমেইড’ (bondmaid) বলে একটি শব্দ বাদ পড়েছিল যার অর্থ হলো ক্রীতদাসী। যা প্রায় ৫০ বছর বাদে ধরা পড়ে। ১৯৩৩ সালে সেই ভুল সংশোধন করা হয়।

১০) ডিকশনারিতে ডর্ড (dord) শব্দটির মতোই এমন অনেক শব্দ ঢুকে পড়ে যা ভুলবশত বা কপিরাইট সংরক্ষনের জন্যে নয় বরং কবিতায় ব্যবহৃত অযাচিত শব্দ ও তার অলংকরণের জন্যে ব্যবহৃত হত। এমনই একটি শব্দ হল ‘ফ্যান্টমনেশন’ (Phantomnation) যা এসেছিল ফ্যান্টম-নেশন(Phantom-nation) শব্দের থেকে এবং তা ব্যবহৃত হয়েছিল দ্য ওডিসি কবিতায় যেখানে ওডিসিয়াস নরক ভ্রমণ করে মৃতদের উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করেছিলেন। এছাড়া ‘রেডরিপেনিং'(Redripening) বলে একটি শব্দ যা ব্যবহার করেছিলেন রিচার্ড স্যাভেজ বলে একজন কবি যা আসলে ছিল ‘রেড রাইপেনিং'(Red Ripening)যা ব্যবহৃত হয়েছিল পাঁকা স্ট্রবেরির রং বোঝাতে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
বিবিধ