ঠান্ডা লড়াইয়ের শিশু―২

ঠান্ডা লড়াইয়ের শিশু―২

অরিজিৎ লাহিড়ী: পান্ডার প্রিয় খাদ্য কী জানেন? আমাদের মনুষ্য জাতির কাছে সেই খাদ্যবস্তু বিপদের মেটাফোর। কচি “বাঁশের” কথা হচ্ছিল। আগের পর্ব যাঁরা পড়েছেন, তাঁরা জানেন ঠান্ডা মহাযুদ্ধ এই নিরীহ শিশু পান্ডার জীবনের কতটা অংশ শুধু মানুষের চিত্ত বিনোদনের জন্য দেশ থেকে দেশান্তরে বিভিন্ন পশুশালাতে ভ্রমণেই কেটে গিয়েছে। যাই হোক, পেটের জ্বালায় আমরা মানুষজাতি তো অতিমারীকে উপেক্ষা করেও দেশ বিদেশ চষে বেড়াচ্ছি। তাহলে জৈবিক নিয়মে পান্ডার তো খাদ্যের চাহিদা থাকবেই । এবার খোঁজ পড়ল চি-চির পেট ভরানোর বাঁশের জোগান কে দেবে?

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

 

চি-চি
চি-চি

ইংল্যান্ডের কর্নওয়েল উপকূলবর্তী মেনাবিলি এস্টেটের এক বাসিন্দা দায়িত্ব নিলেন। প্রাথমিক ভাবে তাঁর কটেজ সংলগ্ন বাঁশ বাগান থেকে কিছু নমুনা লন্ডনে পাঠালেন। স্থানীয় পোলকেরিস স্কাউট দলের লিডার মাইক কেরিসের তত্ত্বাবধানে উপরোক্ত মহোদয় চি-চির আনুষ্ঠানিক অন্নদাতা নিযুক্ত হলেন। চি-চির ইহকাল পর্যন্ত এই বরাদ্দ বলবৎ ছিল। ১৯৭২ এর ২২শে জুলাই, চি-চির দেহাবসান ঘটে।

চি-চি সম্পর্কে আরও কয়েকটি তথ্য শেষবেলা দিয়ে যাই। ওয়ার্ল্ড ওয়াইল্ডলাইফ ফান্ডের পূর্ববর্তী লোগোর ভাবনায় পরিবেশ সংরক্ষণ বিশেষজ্ঞ স্যার পিটার স্কটের সাদা কালো লোগোর ভাবনায় ছিল এই চি-চি’র অবয়ব। যদিও ১৯৮৬তে এই ফান্ডের নাম পরিবর্তিত হয়ে হয়ে যায় ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার ।

চি-চির যৌনজীবন এখনও অদ্ভুত ভাবে বহু প্রাণী বিজ্ঞানীর চর্চার কেন্দ্রে। চি-চির লন্ডনের বাসিন্দা হওয়ার পরে তার দেশজ অপর একটি পুরুষ পান্ডার তার সাথে যৌনমিলনের জন্য প্রচেষ্টা করেছিলেন লন্ডন চিড়িয়াখানার কিউরেটর । কিন্তু, মানুষের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা চি-চি সেই পুরুষ সঙ্গীর ওপর রীতিমতো ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে লাথি মেরে খাঁচার বাইরে বের করে দেয় ।

লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে "স্টাফড" চি-চি
লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে “স্টাফড” চি-চি

চি-চির দেহাবশেষ এখনো লন্ডন ন্যাচারাল হিস্ট্রি মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।

সমাপ্ত

শেয়ার করুন

0Shares
0
বিবিধ