এক অতিকায় কৃষ্ণগহ্বর নিখোঁজ― বলছে নাসা

এক অতিকায় কৃষ্ণগহ্বর নিখোঁজ― বলছে নাসা

টিম যুগান্তর: নক্ষত্রবিজ্ঞানীরা লক্ষ করেছেন যে কৃষ্ণগহ্বরকে কেন্দ্র করে ছায়াপথগুলির মধ্যে প্রত্যাশিত দূরত্বের অভাব রয়েছে। যদিও প্রত্যেকটির দুরত্ব সুর্য থেকে প্রায় ১০০ বিলিয়ন গুন হওয়া উচিত।
নাসার বক্তব্য, ১৯৯৯ থেকে ২০০৪ এর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পৃথিবী থেকে প্রায় ২.৭ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে ছায়াপথের কেন্দ্রে এই কৃষ্ণ গহ্বরটি থাকার কথা।

সম্প্রতি, পশ্চিম ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির নক্ষত্রবিজ্ঞানীরা নাসার চন্দ্র এক্স -রে অবজার্ভেটরি এবং হাবল্ স্পেস টেলিস্কোপটি ব্যবহার করেন সঠিক জায়গাটি চিহ্নিত করতে কিন্তু তাঁরা কৃষ্ণগহ্বরটিকে খুঁজে পাননি ।

এই বিশ্বের প্রায় প্রত্যেকটি ছায়াপথই বিশাল কৃষ্ণগহ্বর ধারণ করে। যত বড় ছায়াপথ ঠিক ততটাই গভীর কৃষ্ণগহ্বর। বস্তুত এই কৃষ্ণগহ্বরটিকেই সবচেয়ে বড় গহ্বর বলে ধরে নেওয়া হয়েছিল ।

আনুমানিকভাবে ধরে নেওয়া হয় যে কৃষ্ণগহ্বরের আকার হতে পারে সূর্যের চেয়ে ১০০ বিলিয়ন গুণ বড়, এই পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায় আকাশগঙ্গা ছায়া পথের কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থিত কৃষ্ণ গহ্বরের আয়তন সূর্যের থেকে চার মিলিয়ন গুণ বড়।

কিন্তু এই কৃষ্ণ গহ্বর এখন নিখোঁজ। বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন রকম ব্যাখ্যা সামনে আনছেন।

প্রথমত হতে পারে, যে কোনও ছায়াপথ নিজস্ব কৃষ্ণগহ্বরকে ত্যাগ করে দিয়ে অপর কোনও ছায়াপথের সাথে মিলিত হয়ে একটি আরও বড়ো আকারের কৃষ্ণগহ্বর সৃষ্টি করেছে।

অথবা এও হতে পারে, যে সমসাময়িক কৃষ্ণগহ্বরগুলি একত্রে মিলিত হয়ে ছায়াপথের কেন্দ্রবিন্দুতে আরও বিশালাকার গহ্বর সৃষ্টি করতে চলেছে।

নক্ষত্রবিজ্ঞানীরা যখন এই ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করেছেন তখন লক্ষ করেছেন যে অপেক্ষাকৃত ছোট গহ্বরগুলিও একত্রে মিলিত হচ্ছে ক্রমে ক্রমে।

আমেরিকান অ্যাস্ট্রনমিক্যাল সোসাইটি নামক একটি পত্রিকায় এটি প্রকাশিত হয়েছে যে সারা বুর্ক স্পলাওর-এর নেতৃত্বে পশ্চিম ভার্জিনিয়া ইউনিভার্সিটির একটি দল দুটি ব্যাখ্যা সামনে এনেছেন― ১) সেখানে কোনও কৃষ্ণ গহ্বর ছিলই না, অথবা ২) যে গহ্বরটি আছে তা চন্দ্র পর্যবেক্ষক দ্বারা পর্যবেক্ষণ করতে পারার মতো অতটাও সক্রিয় নয় ।

বৈজ্ঞানিকরা এখন আশায় আছেন নাসার পরবর্তী জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপটি দ্বারা যদি আরও কাছ থেকে কিছু দেখতে পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন

0Shares
0
জ্ঞান বিজ্ঞান সাম্প্রতিক