চলতি অর্থবছরে ভারতের রাজস্ব ঘাটতি ৭% ছাড়িয়ে যেতে পারে

চলতি অর্থবছরে ভারতের রাজস্ব ঘাটতি ৭% ছাড়িয়ে যেতে পারে

টিম যুগান্তর: কর কম আদায় হওয়ার কারণে সরকারী আর্থিক অবস্থা ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে।

তিনটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, মার্চ মাসে বৎসরান্তে ভারতের আর্থিক ঘাটতি মোট দেশজ উৎপাদনের ৭% ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লকডাউন এবং কোভিড ১৯-এর বিস্তারকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজস্ব সংগ্রহ ব্যাহত হয়েছে।

সরকার ফেব্রুয়ারিতে চলতি বছরের জন্য 3.5% ঘাটতির পূর্বাভাস করেছিল। মহামারীতে ক্ষতিগ্রস্থ লক্ষাধিক মানুষ ও ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানকে ত্রাণ সরবরাহের জন্য ৭.৮ ট্রিলিয়ন টাকা সরকার দেওয়া ধার্য্য করেছে, পরে তা আবার সংশোধন করে ₹১২ ট্রিলিয়ন করা হয়েছে।

বাজেটের আলোচনায় বলা হয়েছে, “রাজস্ব ঘাটতি তুলনায় আরও বড় হবে …প্রথম তিন মাসে সম্পূর্ণ লকডাউনের কারণে আমাদের রাজস্ব আদায়ের ক্ষতি হয়েছিল এবং তা পুনরুদ্ধার করা কঠিন, আমাদের ধারণা তা ৭% এর বেশিই হবে।”

দু’টি সূত্র থেকে জানা গেছে যে রাজ্য পরিচালিত সংস্থাগুলির কর এবং বিভক্তকরণের ফলে রাজস্বের ঘাটতি ৭ ট্রিলিয়ন টাকা হতে পারে। অর্থ মন্ত্রকের একজন মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। সরকার এখনও কোনও সংশোধিত আর্থিক ঘাটতির ব্যয় বরাদ্দ প্রকাশ করতে পারেনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে মহামারী এবং কঠোর লকডাউন ভারতে মারাত্মক আঘাত হানে। এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এপ্রিল-জুন কোয়ার্টারে ২৩.৯% এবং সেপ্টেম্বরের কোয়ার্টারে ৭.৫% হ্রাস প্রথমবারের মন্দাকে রেকর্ড করেছে। ভারত অনুমান করেছে যে পুরো আর্থিক বছরে জিডিপি ৭.৭% কমে যাবে। অপর এক সিনিয়র সরকারী সূত্র বলেছে যে, কর প্রাপ্তির ঘাটতির কারণ আর্থিক সংস্থাগুলি ছিল, কিন্তু শীর্ষ অগ্রাধিকার হিসাবে প্রবৃদ্ধির পুনরুজ্জীবন (revival of the growth)-র ক্ষেত্রে সরকারের ব্যয় হ্রাস করার খুব কম জায়গা রয়েছে। “আমরা চলতি অর্থবছরের সবচেয়ে খারাপ আর্থিক ঘাটতি সংখ্যা দেখতে পাচ্ছি।” আরেকটি সরকারী সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব ঘাটতি জিডিপির ৮ শতাংশকে ছুঁতে পারে। ১লা ফেব্রুয়ারি, যখন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ বার্ষিক বাজেট উপস্থাপন করবেন, তখন তিনি চূড়ান্ত ঘাটতির ব্যায় বরাদ্দ ঘোষণা করবেন।

 

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক