আসামের চা উৎপাদক সংস্থাগুলি নতুন ধরনের চা তৈরিতে উদ্যোগী

আসামের চা উৎপাদক সংস্থাগুলি নতুন ধরনের চা তৈরিতে উদ্যোগী

টিম যুগান্তর: আসাম টিহাউসের মাধুর্য গোগোই আজ হয়তো অন্য কোনও পেশায় নিযুক্ত থাকতেন যদি সেদিন রান্নাঘরে এই অনিচ্ছাকৃত দুর্ঘটনাটি না ঘটত।

মাধুর্য গোগোই বলেন “একদিন কিছু মাশরুম গুঁড়ো চায়ের পাত্রে পড়ে যায় এবং মিশ্রণ মিশে গিয়ে শুকিয়ে বেরিয়ে আসে,এই ভাবেই জন্ম নেয় “গ্রিন টি এবং ওয়েস্টার মাশরুমের মিশ্রণ “।

গুগোই বলেন “আমি ওই মিশ্রণটি ফেলে দিতাম কিন্তু আমার বাবা তিনি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে একটু বেশি পছন্দ করেন,তিনি এটার রেখে দেখতে চান।”

তাঁর বাবা বিশ্বাস করেন এই আকস্মিক মিশ্রন ‘তিক্ত গ্রিন টি’-এর মতোই, যা তিনি ১৯৯৭ সালে কোলন ক্যান্সারের চিকিৎসা হওয়ার পর পান করতেন। তিনি জানান “আমরা এই চা ও মাশরুম মিশ্রন থেকে এক প্রকার গাঢ় প্রকৃতির মিশ্রন পাই যা “গ্রিন টি “এর মত সেই পরিমাণ তিক্ত নয়,আর এর স্বাদটাও ভাল।”

২০০৬ সালে রপ্তানি শংসাপত্রের জন্য কিছু নমুনা দেওয়া হয় ‘ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ এন্টারপ্রেনারশন ইন গুয়াহাটি’-কে এবং ২০০৭ সালে মাশরুম এবং চায়ের মিশ্রণটি নিয়ে যাওয়া হয় জাপানে; সেখান থেকে এক মাস পর একজন জাপানি বিক্রেতা তাকে ৬০ কেজি চায়ের অর্ডার দেন।

গোগোই ছয় কিলো পর্যন্ত ব্যবস্থা করতে পারতেন, কিন্তু সেখানে উল্লেখ করে দেওয়া হয় যে তা ভেষজ হওয়া আবশ্যক। ২০১৪ সালে গোগোই ইউরোপ যাত্রা করেন মার্কেটিং সম্বন্ধে পড়াশোনা করতে। পরবর্তী দুটি বছর তিনি বিশেষ চা নির্মাণ যন্ত্র নিয়েও পড়াশোনা করেন।

বর্তমানে গোগোই এবং তার স্ত্রী পুষ্পাঞ্জলী দিনরাত এই বিশেষ ধরনের চা বানাতে পরিশ্রম করে চলেছেন। গোগোই বলেন,”সবুজ, হলুদ, সোনালী, সাদা, ওলং, অর্থোডক্স এমন বিভিন্ন ধরনের চা আমরা বানাই কিন্তু তা শুধুমাত্র ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী।”

১৮৩৭ সালে যখন প্রথম ‘আসাম চাবুয়া রিজিওন’ প্রতিষ্ঠিত হয়, তখন শুধুমাত্র ‘অর্থোডক্স চা’ উৎপাদন হত। ১৯৫০ সালে একাধিক চাষীদের নিযুক্ত করা হয় এই প্রকল্পে। বর্তমানে প্রায় ১.৭২লক্ষ ছোট চা উৎপাদক উপস্থিত আছেন, যারা কমপক্ষে ২৫ একর জায়গা জুড়ে চা উৎপাদনে সক্ষম। এই ছোট চা বাগান গুলি ২০১৯সালে প্রায় ১,০২৩.৩৩ মিলিয়ন কেজি ‘গ্রীন টি’ উৎপাদন করতে সাফল্য লাভ করে।

উপমন্যু বোর্কাকটি বলেন, “মূল বিষয় হল ছোট চাষীরা সবুজ চা বিক্রি করে দেন বড় চায়ের সংস্থার কাছে এবং তার পরিবর্তে পান চা পাতার কারখানা ”

বাজারে নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য অনেক সংস্থা কৃত্রিম রং এর ব্যবহার করে থাকে।

রাখি দত্ত সাইকিয়া বিখ্যাত তার ৯৯ হেক্টর ভেষজ চা বাগানের জন্য,যা গোলাঘাট এ বর্তমান। ২০১৭সালে তিনি এক নতুন হলুদ রঙের ব্যবহার করেন। তিনি বলেন “আমি চীনা সাহিত্য অনুযায়ী হলুদ রঙের চা বানাতে চেষ্টা করেছি, যা অনেক দুর্লভ এবং মূল্যবান, ১০০০ বছর আগের চীনের রাজকীয় তাং বংশীয়রা তা পান করতেন।

রাখির পূর্বে কিছু চাষী দশম শতকে খুঁজে পান সাদা রংয়ের চা পাতা, যা শুষ্ক অবস্থায় হলুদ রংয়ে পরিণত হয়। দন্যি পোলো টি এস্টেট হলুদের পাশাপাশি বেগুনি রংয়ের চা উৎপাদন শুরু করে যা অরুণাচলে বিখ্যাত।২০১৮ সালে এই বেগুনি চা ২৪,৫০১টাকা প্রতি কেজি দরে বিক্রয় হয় গোহাটি চা নিলাম কেন্দ্রে।

এস্টেটের সিনিয়র ম্যানেজার মনোজ কুমার জানান, “প্রায় ১০,০০০ বেগুনি চা পাতা প্রয়োজন হয় মাত্র ১ কেজি বেগুনি চা বানাতে।”

গুয়াহাটি তে অবস্থিত রনজিত বড়ুয়া,যিনি ‘অ্যারোমা টি’ অর্থাৎ ‘সুগন্ধি চা’ উৎপাদক হিসেবে প্রসিদ্ধ তিনি বলেন, “আমি পাঁচ ধরনের স্বাদের চা তৈরিতে সক্ষম হয়েছি।”

বড়ুয়া বলেন “চা প্রেমীদের চাহিদার উপর নির্ভর করে চা নির্মান ও প্রক্রিয়াকরণ করা হয়।যেমন চকলেট অরেঞ্জ টি যা কমলালেবুর খোসার সাথে চকলেট চিপস মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এমন ধরনের চায়ের এ সময় প্রচুর চাহিদা বাজারে।”

শেয়ার করুন

0Shares
0
বিবিধ সাম্প্রতিক