নিজেদের উদ্যোগে প্রথমবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল বাঁকুড়ার “শুশুনিয়া ঐকতান”

নিজেদের উদ্যোগে প্রথমবার রক্তদান শিবিরের আয়োজন করল বাঁকুড়ার “শুশুনিয়া ঐকতান”

টিম যুগান্তর: হিংসায় রক্তপাত আর নয়, স্বেচ্ছায় রক্তদানই হোক আমাদের জীবনমন্ত্র। সেই মন্ত্রেই দীক্ষিত হল বাঁকুড়ার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের উদীয়মান তারকাগোষ্ঠী ‘ঐকতান’, গত দু’বছর ধরে বাঁকুড়ার কৃষ্টি ও সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলের একটি সুপরিচিত নাম। সারাবছর তাঁরা চর্চা করেন নাচ, গান, আবৃত্তি, নাটকের। বর্তমান বিশ্বের এই মহাসঙ্কটময় পরিস্থিতিতে সংস্কৃতির সাথে মানবতাবোধ মিলেমিশে তৈরি হয়েছে সামাজিক দায়িত্ববোধ। “রক্তদান জীবনদান”– বিষয়টিকে শুধুমাত্র সিলেবাস আর জ্ঞানগর্ভ ভাষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এই মানবিক মহাযজ্ঞে। এই প্রথমবার তাঁদের আয়োজিত স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচীতে শুশুনিয়া আর ছাতনার পঁচিশ জন রক্তদাতা যোগ দিলেন।

হঠাৎ কীভাবে এল এই চিন্তা? এই প্রসঙ্গে গোষ্ঠীর কর্ণধার কৌশিক মণ্ডল জানান, তাঁরা এর আগেও ‘একটি গাছ একটি প্রাণ’ বিষয়টি নিয়ে সামাজিক কাজ করেছেন। এবার থেকে প্রত্যেক ১৪ই ফেব্রুয়ারি স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির পালন করতে চান। সদস্যা শম্পা, প্রিয়া, চুমকির কথায়, প্রথমবার এই ধরনের কাজ করে তাঁরা অত্যন্ত খুশি। ভবিষ্যতে এরকম কাজ আরও ভালোভাবে করতে চান। দলের কলাকুশলীদের মতে, শিল্পী হিসেবে শিল্পের প্রতি যেমন দায় থাকে তেমনই সমাজবদ্ধ জীব হিসেবে সমাজও তাঁদের কাছ থেকে দায়িত্বশীলতা আশা করে। উন্নত সমাজ ছাড়া শিল্প মূল্যহীন হয়ে পড়ে। প্রথমবার নেওয়া এই মহান পদক্ষেপে সবার আন্তরিক সহযোগিতা ও উৎসাহ পেয়ে দলের সবাই অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

এদিনও সংস্কৃতিপিপাসু রক্তদাতাদের বাঁকুড়ার ঐকতান সম্প্রদায় নিরাশ করেননি। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুচারুভাবে গোটা পরিবেশকে আনন্দময় করে তুলেছেন।

করোনা আতিমারী সারা বিশ্বকে শিখিয়েছে স্বাস্থ্যসচেতনতার প্রয়োজনীয়তা। তাই রক্তদানের মতো পবিত্র অনুষ্ঠান পরিচালন এবং যোগদান দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা ভবিষ্যতে শুশুনিয়া ঐকতানের সংস্কৃতি ও মানবতার এই অটুট মেলবন্ধন প্রত্যাশা করি।

ছবি: শুভ্রাচল চৌধুরী 

শেয়ার করুন

0Shares
0
বিবিধ সাম্প্রতিক