কয়লাকাণ্ডের তদন্ত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গেল সিবিআই; তলব পড়ল স্ত্রীয়ের

কয়লাকাণ্ডের তদন্ত করতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে পৌঁছে গেল সিবিআই; তলব পড়ল স্ত্রীয়ের

টিম যুগান্তর: ভোটের আগেই ফের বিতর্কে জড়ালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাইপো তথা সর্বভারতীয় তৃণমূল যুব কংগ্রেসের সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কয়লাকাণ্ডে নাম জড়ানোর পর এবার তাঁর স্ত্রী রুচিরা নারুলাকে জেরা করার উদ্দেশ্যে সিবিআই তদন্তের জন্য তলব করা হয়েছে। গত রবিবার দুপুর দুটো নাগাদ সিবিআই-এর পাঁচ অফিসার তাঁদের কলকাতার হরিশ মুখার্জি রোডের বাড়ি শান্তিনিকেতনে গেলে রুচিরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন না। অভিষেক ও রুচিরা ২০১২ সালে বিয়ে করেন এবং বর্তমানে তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে।
“বাঘের বাচ্চা কখনও ইঁদুর বেড়াল কে ভয় করেনা। আমরা বন্দুকের বিপরীতে দাঁড়িয়েছি, আমাদের মেরুদন্ড ভেঙে দেওয়া অত সহজ না”, বলে ভাষা দিবসের এক অনুষ্ঠানে মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সিবিআই-এর তরফ থেকে অভিষেকের দক্ষিণ কলকাতার বাড়ি তে হানা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর।
অভিষেক এই ঘটনার পর টুইট করেন, “দুপুর দুটো নাগাদ সিবিআই আমার স্ত্রী এর নামে নোটিশ পাঠায়। আমাদের দেশের আইনের ওপর সম্পূর্ণ আস্থা আছে। তারা যদি ভেবে থাকে আমাদের ভয় দেখিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে তাহলে তারা ভুল করছে। এভাবে আমাদের ভয় দেখিয়ে দমানো যাবে না।”
সিবিআই-এর তরফে জানানো হয়েছে যে ফৌজদারি আইনের ১৬০ ধারায় নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সোমবার সকালে ফের রুচিরাকে জেরা করার উদ্দেশ্যে সিবিআই-এর তরফে আসতে পারে বলে জানানো হয়। গত বছর ২৭শে নভেম্বর মামলা রুজু করা হয়।
তৃণমূলের মন্ত্রী তথা লোকসভার সদস্য সৌগত রায় মন্তব্য করেন, “এটা জানা কথা যে ভোটের আগে বিজেপি আমাদের ভয় দেখানোর চেষ্টা করবে কিন্তু আমরা এই ব্যাপারে চিন্তিত নই।”
আন্তর্জাতিক ভাষা দিবসে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যের জেরে রাজনৈতিক মহল বেশ সরগরম। মুখ্যমন্ত্রী এইদিন বলেন, “আমি গর্বের সাথে কথা বলি কারণ আমি বাংলা ভাষায় কথা বলি। এই ভাষা আমায় সাহস যোগায়। আজকের দিনে আমি কথা দিলাম, আমি লড়াই এর জন্য প্রস্তুত তাতে যদি আমায় জেলেও যেতে হয় আমি পিছপা হব না। আমাদের জয় নিশ্চিত। বাংলার ক্ষতি করা অত সহজ না। বাংলা নতুন সূর্যোদয় দেখবে।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন যে কেন্দ্র পশ্চিমবঙ্গের নাম বদলে ‘বাংলা’ করার ক্ষেত্রেও কোনও পদক্ষেপ নিচ্ছে না এটা একপ্রকার অপমান রাজ্যের জন্য। এই রাজ্যের সাথে ‘সৎ মা’-এর মতো আচরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
“আমাদেরকে বলা হয় যে ‘বাংলা’ নাম টা বাংলাদেশের মতো শোনায় তাই রাজ্যের এই নামকরণ সম্ভব না। তাহলে পাঞ্জাব নামকরণ কিভাবে সম্ভব যখন পাকিস্তানে পাঞ্জাব নামক স্থান আছে? আমাদের রাজ্য কে সবসময় অন্ধকারে রাখা হয়েছে, আমাদের মেরুদণ্ড গুঁড়ো করে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে সবসময়।”, মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
কুণাল ঘোষ এই ব্যাপারে মন্তব্য করেন, “সিবিআই-এর যদি তদন্ত করার এতই ইচ্ছা তবে তারা মুকুল রায় ও শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে যথাক্রমে নারোদা ও সারদা চিটফান্ড বিষয়ে তদন্ত করছেনা কেন? ওরাও তো সন্দেহের তালিকায়।”
৩১শে ডিসেম্বর সিবিআই ব্যবসায়ী তথা তৃণমূল যুব’র ফ্রন্ট জেনারেল সেক্রেটারি বিনয় মিশ্র’র তিনটে বাড়িতে অভিযান চালায় কয়লা কাণ্ডের তদন্তের ভিত্তিতে এবং এর পর তিনি নিখোঁজ হয়ে যান এবং তাকে পলাতক ঘোষণা করা হয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই বিনয় মিশ্রকে দলে নিয়ে আসেন বলে খবর।
বেআইনী ভাবে খনন করা কয়লা হাজার হাজার কোটি টাকা মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করা হয়েছে বহু বছর ধরে। এর পেছনে রয়েছে একটা চক্র যারা
পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিমাঞ্চল এ কাজ করে যেখানে ইস্টার্ন কোল ফিল্ড এর অনেকগুলো কয়লাখনি আছে। সন্দেহভাজনের তালিকায় থাকা অনুপ মাঝি ও আলিয়াস লালা ও পলাতক।
গত বছর ডিসেম্বরের শুরুর দিকে সিবিআই গণেশ বাগারিয়া নামক এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের বাড়ি ও অফিসে হানা দেয়।
এই ব্যাপারে সিবিআই-এর তরফে সংবাদমাধ্যমকে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি বিবৃতি দেওয়া হয়নি।
সেপ্টেম্বরে তদন্ত শুরুর পর থেকেই বিজেপির অভিযোগ যে বেআইনি কয়লা বিক্রির টাকা শেল কোম্পানিগুলির দ্বারা হোয়াইট ওয়াশ করে ক্ষমতাসীন দলের তহবিলে চালান করে দেওয়া হয়েছে এবং এর মূল অভিযুক্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
“আরও বিভিন্ন কেলেঙ্কারিতে তৃণমূল নেতাদের জড়িয়ে থাকার খবর সিবিআই ফাঁস করবে। রাজ্যবাসী জানে যে তৃণমূল নেতারা কয়লা কাণ্ডে জড়িত।”, বলে রবিবার মন্তব্য করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক