এবার সরকারি নজরদারির আওতায় বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

এবার সরকারি নজরদারির আওতায় বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম

টিম যুগান্তর: সরকারের তরফ থেকে নেটফ্লিক্স এবং অন্যান্য ওভার দ্য টপ(OTT) ডিজিটাল মাধ্যম সংস্থা গুলির জন্য একপ্রকার নীতিমালা কোড প্রবর্তন করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে যার ফলে তারা যেন এমন কোনো অনুষ্ঠান প্রচার না করতে পারে যাতে ভারতের সার্বভৌমতা ও অখণ্ডতা নষ্ট হয় অথবা দেশের সুরক্ষা ব্যবস্থা হুমকির সম্মুখীন হতে পারে অথবা বৈদেশিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
বুধবার জানানো হয় যে বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ও অনুষ্ঠান প্রচার সংস্থাগুলিকে ত্রিস্তরীয় নিয়ন্ত্রক কাঠামোর আওতায় আনা হবে এই নতুন আইনের ক্ষেত্রে। এই নিয়ম গুলি ফেসবুক ও অন্যান্য ওভার দ্য টপ(OTT) কোম্পানি গুলির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। ত্রিশ পৃষ্ঠার এক নথিপত্রে এই আইনের খুঁটিনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। অনিয়ন্ত্রিত সংস্থা গুলির ওপর তথ্য প্রযুক্তি আইন প্রয়োগ করা হবে। এই আইন মেনে চলা আবশ্যক।
তথ্য প্রযুক্তি (মধ্যস্থতাকারী ও ডিজিটাল মাধ্যম নীতিশাস্ত্র সম্পর্কিত নির্দেশিকা) বিধিমালা ২০২০ শিরোনাম নথিতে তথ্য প্রযুক্তি আইন(২০০০)-এর ৮৩ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাগুলি কে উদ্ধৃত করা হয়েছে। এই বিভাগটি সরকারি ও বৈদ্যুতিক গেজেটে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আইনের বিধানগুলি কার্যকর করার জন্য সরকারকে বিধি তৈরীর অনুমতি প্রদান করে।
অনলাইন বিষয়বস্তু পরিচালনার জন্য সরকার প্রচলিত আইনগুলি যেমন কেবল টেবিল টেলিভিশন নেটওয়ার্কস রেগুলেশন আইন, প্রেস কাউন্সিল আইন, এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আইনগুলি বর্ধিত করছে। আইনগুলি এখনও অবধি সংবাদ মাধ্যম ও টেলিভিশনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সমালোচকরা এই আইন নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এর ফলে অনেক প্রচারিত অনুষ্ঠানে সেন্সরশিপ লেগে যেতে পারে।
এই কোডটি ওটিটি(OTT) প্ল্যাটফর্ম গুলিকে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশযোগ্যতার উন্নতি করবে বলেও আশা করা হচ্ছে। এটি অনলাইনে প্রচারিত অনুষ্ঠান বা বিষয়গুলির ক্ষেত্রে সামগ্রিক শ্রেণীবিন্যাসের আদেশ প্রদান করে। এই বিন্যাস শুধু মাত্র প্রাপ্তবয়স্ক তকমা দেওয়া অনুষ্ঠান বা বিষয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এই নতুন নিয়মে তেরো বছর বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে প্যারেন্টাল লক এর মতো বিষয় গুলিও আনবে যাতে প্ল্যাটফর্মগুলি ব্যবহারের ক্ষেত্রে বয়সের ব্যাপারটা অসুবিধা সৃষ্টি না করতে পারে।
বিষয়বস্তু শ্রেণীবদ্ধকরণের ক্ষেত্রে প্রসঙ্গ, থিম, সুর, প্রভাব এগুলি লক্ষ্য করতে হবে।
যে থিম বা বিষয়গুলিকে সরকারের তরফে সবচেয়ে কঠিন বলে বিবেচনা করা হয়েছে সেগুলি হল মাদকের অপব্যবহার, সহিংসতা, যৌনতা, জাতিগত বা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ইত্যাদ।
প্ল্যাটফর্মগুলি বর্ণ, লিঙ্গ, ধর্ম, প্রতিবন্ধকতা, যৌনতা সম্পর্কিত বিশেষ কোনও চলচ্চিত্রের আপত্তিকর প্রভাবের বিষয়টিও বিবেচনার মধ্যে রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেটিং দেওয়া নির্ভর করবে তাদের সংবেদনশীলতার সাথে বিষয়টি চিত্রিত করার ওপর।
সহিংসতা, তামাক, নেশা দ্রব্য, নগ্নতা বিষয়ক ব্যাপারগুলি চিত্রিত করার ব্যাপারেও নজর রাখা হবে এবং এগুলির ক্ষেত্রে অনূর্ধ্ব ষোলোকে ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবেনা। অল্প বয়স্ক শিশুদের ক্ষেত্রে নজর রাখা হবে ভয়, হুমকি এই ধরণের বিষয়বস্তু না দেখানোর।
এই ত্রিস্তরীয় আইনের প্রথম স্তর হল স্ব-নিয়ন্ত্রণকারী সিস্টেম, যা প্ল্যাটফর্মগুলিকে একটি অভিযোগ নিরসন প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করতে বলবে। অভিযোগ নিষ্পত্তি অফিসার কে বিশদভাবে প্রদর্শন করতে বলা হবে।
দ্বিতীয় স্তর হল, এই স্ব-নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্ট বা হাইকোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক থাকবেন। যদি কোনও ব্যক্তির মনে হয় যে তার অভিযোগের যথাযথ সুরাহা হয়নি তবে এই ক্ষেত্রে আপিলের বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে।
তৃতীয় স্তর হল যে, সরকার কর্তৃক এই কোডটির অনুসরণ নিশ্চিত করার জন্য একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি তৈরি করা হবে। এই বিশেষ কমিটিই নিয়ন্ত্রক কাঠামোর শীর্ষস্থানীয় হিসেবে বিবেচিত হবে এবং তথ্য প্রযুক্তি, তথ্য ও সম্প্রচার, স্বরাষ্ট্র, আইন, বৈদেশিক বিষয়, প্রতিরক্ষা, এবং মহিলা ও শিশু উন্নয়ন মন্ত্রকের প্রতিনিধিও থাকবে এই কমিটিতে যার ফলে বিভিন্ন বিষয় দেখা সম্ভব হবে।
কমিটি কোড লঙ্ঘন করে বিষয়বস্তু অবরুদ্ধ করার সুপারিশ করতে পারে। এটি কোনও ইস্যুতে স্বতঃপ্রবৃত্ত জ্ঞান নিতে পারে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
জ্ঞান বিজ্ঞান বিবিধ সাম্প্রতিক