রাজনীতিতে আগ্রহী তরুণীদের প্রশিক্ষণের জন্য তিন মাসের সার্টিফিকেট কোর্স শুরু করার পরিকল্পনা দিল্লির মিরান্ডা হাউস ইউনিভার্সিটির

রাজনীতিতে আগ্রহী তরুণীদের প্রশিক্ষণের জন্য তিন মাসের সার্টিফিকেট কোর্স শুরু করার পরিকল্পনা দিল্লির মিরান্ডা হাউস ইউনিভার্সিটির

টিম যুগান্তর: ১৯৪৮ সালে প্রতিষ্ঠিত দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্গত মিরান্ডা হাউস নারীশিক্ষার জগতে একটি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। সেই ঐতিহ্য অনুসরণ করে কলেজ কর্তৃপক্ষ চলতি বছরের এপ্রিল থেকে, রাজ্য ও জাতীয় স্তরে রাজনীতিতে আগ্রহী তরুণীদের প্রশিক্ষণের জন্য তিন মাসের সার্টিফিকেট কোর্স শুরু করার পরিকল্পনা করেছে। কলেজ অধ্যক্ষ বিজয়লক্ষ্মী নন্দ জানিয়েছেন, পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজনীতিতে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য ভারতের ইতিহাসে এই প্রথম রাজনীতি প্রশিক্ষণের জন্য কোনও কোর্স চালু করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হতে চলেছে।

সংবামাধ্যমকে দেওয়া স্বাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমরা এপ্রিলের মধ্যে একটি পাইলট কোর্স চালু করার পরিকল্পনা করেছি এবং পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ থেকে সকল আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য এই কোর্স চালু করা হবে। এই কর্মসূচিতে গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে শুরু করে নগর এবং পৌর এলাকা পর্যন্ত সকল স্তরের মহিলাদের প্রশিক্ষণ এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিতে জোর দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, যদিও মিরান্ডা হাউসের পাঠক্রম নিয়ে চিন্তাভাবনা এখনও শেষ হয়নি। এক সপ্তাহব্যাপী ভার্চুয়াল নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়া মহিলা রাজনৈতিক নেত্রীদের সহায়তার জন্য তৈরি করা হয়েছে যাঁরা কলেজের ‘রিসোর্স পার্টনার’ হিসেবে কাজ করবে এবং ‘কো ক্রিয়েটার’ এর ভূমিকা পালন করবে।

‘শি লিডস’ হলো ইন্ডিয়ান স্কুল অফ ডেমোক্রেসির (আইএসডি) শেভেনিং অ্যালুমনি প্রজেক্ট ফান্ড (সিএপিএফ) এর সহায়তায় একটি বেসরকারী সংস্থা স্ত্রী শক্তি – দ্য প্যারালাল ফোর্স পরিচালিত একটি প্রকল্প। এটি স্ত্রী শক্তি পরিচালিত প্রথম নারীনেত্রীদের প্রশিক্ষণ প্রকল্প, যা ৮ই মার্চ নিউদিল্লির ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনালে উদঘটিত হবে।

অধ্যক্ষ্যা জানান, কর্তৃপক্ষ যেকোনও অবস্থায় রাজনীতিতে আসতে আগ্রহী মহিলাদের প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখে প্রশিক্ষণক্রিয়ার পরিকল্পনা করেছে। যদিও পরিকল্পনাটিতে ব্যক্তিগতভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তবে আপাপাত অনলাইনের পাশাপাশি ব্যক্তিগতভাবেও পরিচালনা করার পরিকল্পনা রয়েছে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বিদ্যা বিস্তার’ প্রকল্পের আওতায় রাজস্থানের কলেজগুলিও এই কোর্সটির সুবিধা গ্রহণ করতে পারে। কলেজ কর্তৃপক্ষ বর্তমানে পাঠক্রম চূড়ান্তকরণের জন্য বিশেষজ্ঞদের সাথে পরামর্শ করছে এবং এই ব্যাপারে সোমবার থেকে নিয়মিত একাধিক বৈঠকের আয়োজনও করা হয়েছে।

কমিউনিস্ট পার্টি অফ ইন্ডিয়ার (মার্কসবাদী) নেত্রী এবং ১৯৬৬ সালের মিরান্ডা হাউসের প্রাক্তন স্নাতক বৃন্দা কারাট, এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। তাঁর কলেজের এমন অভিনব উদ্যোগে প্রাক্তন ছাত্রী হিসেবে তিনি আনন্দিত। তিনি মহিলাদের অধিকারের সুরক্ষায় মহিলা পরিচালিত এই কর্মকাণ্ডের প্রশংসায় মুখর হয়েছেন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে নারীর অংশগ্রহণের প্রাসঙ্গিকতা প্রদর্শনের জন্য ভারতের বিভিন্ন স্তরের নারীরা গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিয়েছে এবং ছাত্রীদের বিশেষত পঞ্চায়েতে মহিলাদের রাজনীতিতে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের মধ্যেই সমাজের মঙ্গল।

ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা শাজিয়া ইলমি মনে করছেন, দেশের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় আরও বেশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণ রাজনৈতিক মহলে এক বিশাল পরিবর্তন আনবে। নীতি ও আইন প্রণয়নে নারীরা সমান অংশীদার হলে তবেই সমাজে প্রকৃত অর্থে রাজনৈতিক সাম্য প্রতিষ্ঠিত হবে। মহিলাদের রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার জন্য পরিস্থতি আরও সহজ করে উপায় তুলতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, টুইটার এবং ফেসবুকের অপব্যবহার এবং ট্রোলিং থেকে মহিলাদের  সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক এবং আইনসম্মত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।

ইলমি আরও বলেন, রাজনীতি নারীদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ, বিশেষত তাঁদের জন্য যাঁদের সাথে কোনও রাজনৈতিক সমর্থন নেই এবং যাঁরা এখানে নিজের যোগ্যতায় রয়েছেন। অল্প বয়স্ক মহিলাদের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হতে শেখাতে হবে কারণ সমাজ তাদের সন্দেহ এবং প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন স্তরের অন্তর্ভুক্ত হলে নারীরা দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ-প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন। প্রত্যক্ষ রাজনৈতিক মঞ্চে নারীর কর্তৃত্ব স্থাপন অবশ্যই ভারতীয় রাজনীতিতে একটি নবজাগরণের ইতিহাস গড়বে। রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নারী স্বাধীনতার একটি প্রধান অঙ্গ তা আজ সন্দেহাতীত।

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক