“ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির প্রগতিতে সহায়তা করছেন”: নাসা’র স্বাতী মোহনের সঙ্গে কথোপকথনে বললেন বাইডেন

“ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির প্রগতিতে সহায়তা করছেন”: নাসা’র স্বাতী মোহনের সঙ্গে কথোপকথনে বললেন বাইডেন

টিম যুগান্তর: বৃহস্পতিবার নাসার মহাকাশ বিজ্ঞানী স্বাতী মোহনকে অভিনন্দন জানানোর সময় মার্কিন রাষ্ট্রপতি জো বাইডেন আন্তরিকভাবে বলেছেন, “ভারতীয়-আমেরিকানরা দেশটির প্রগতিতে সহায়তা করছেন”।
ইন্দো-আমেরিকান স্বাতী মোহন হলেন ২০২০ সালের মঙ্গলগ্রহে অভিযানের প্রধান পথপ্রদর্শক এবং মঙ্গলযান গ্রহে অবতরণের সময় জেট প্রপালশন ল্যাবরেটরি(JPL) থেকে তাঁর গলার স্বর শুনতে পায় সমগ্র বিশ্ববাসী।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি বলেন, “এটি একটি অবিশ্বাস্য সম্মান এবং এটি সত্যিই আশ্চর্যজনক যে ভারতীয় বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা দেশটি গ্রহণ করছে এবং এর অগ্রগতি তে অংশগ্রহণ করছে। আপনি, আমার সহ-রাষ্ট্রপতি এবং আমার বক্তৃতা লেখক, বিনয়, আপনারা সবাই।” বাইডেন উপরাষ্ট্রপতি কমলা হ্যারিস এবং বক্তৃতা লেখক বিনয় রেড্ডির কথা বলেছেন।
বাইডেন তাঁর প্রশাসনের আরও কয়েকজন ভারতীয় বংশোদ্ভূত সদস্যের নাম উল্লেখ করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন হলেন, সাধারণ শল্যচিকিৎসক মনোনীত প্রার্থী বিবেক মূর্তি, আমেরিকার একজন গন্যমান্য ডাক্তার; বাজেট প্রধানের মনোনীত প্রার্থী নীরা টন্ডন, মন্ত্রিপরিষদের বিশিষ্ট পদাধীকারি ; এবং সিভিল সার্ভিসের কর্ণধার কিরণ আহুজা।
বাইডেন এরপর মিস মোহনকে কথা বলার জন্য অনুরোধ করলেন এবং নিজে চুপ করে শুনলেন।
“আমার পথ শুরু হয়েছিল বেশ ছোটবেলায় স্টার ট্রেকের প্রথম পর্বটি দেখে”, মোহন বললেন। “মহাকাশের এই চমৎকার দৃশ্যের পাশাপাশি, যা সত্যিই আমার মনোযোগ আকর্ষণ করল তা হল এই দলটি, যারা একসাথে মিলেমিশে কাজ করছিল এই প্রযুক্তিগত বিস্ময় এবং নতুন জিনিস বোঝার জন্য এবং নতুন জীবন সন্ধানের একমাত্র উদ্দেশ্য নিয়ে” তিনি আরও বলেন।
তাঁর কথায়, “যে শেষ দিন ও সপ্তাহ কাটছিল এবং আমরা মঙ্গলে অবতরণের দিকে এগোচ্ছিলাম, তত চিন্তা ও উদ্বেগ বাড়ছিল এবং আমরা শেষ সাত মিনিট না আসা পর্যন্ত বেশ ভয়ে ছিলাম। নিরাপদে মঙ্গলে পদার্পণের পর, মঙ্গল থেকে আসা প্রথম চিত্রগুলি পাওয়ার পর, আমরা মঙ্গল গ্রহের যেখানে যেতে পারিনি এমন জায়গাটি দেখতে পেয়ে এবং নতুন জীবন সন্ধানের উদ্দেশ্যে সেখানে পৌঁছে কেবল এরকম অনুভূত হচ্ছিল যেন স্বপ্নে বাস করছি। দলটি সুরক্ষিতভাবে সেখানে যেতে সক্ষম হওয়ার জন্য এখন স্বস্তি বোধ হচ্ছে, যা বাকি রয়েছে তা হল বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারগুলি ও মঙ্গলে প্রাচীন কালে জীবন ছিল কিনা তার সন্ধান করা”।
“মঙ্গলে অবতরণ সফল হয়েছে” এবং “সাবধানে অবতরণ করা গেছে, এবার জীবনের সন্ধান করার প্রক্রিয়া শুরু হবে”, এই দুটি বাক্যের দ্বারা মোহন রাতারাতি পৃথিবীখ্যাত হয়ে গেছেন।
মোহন মাত্র এক বছর বয়সে তার বাবা-মায়ের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে আসেন, এবং উত্তর ভার্জিনিয়া/ওয়াশিংটন, ডিসি মেট্রো এলাকায় বেড়ে ওঠেন। তিনি যান্ত্রিক ও মহাকাশ প্রকৌশল বিভাগে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং এমআইটিতে এ্যারোনটিক্স এবং নভোচারীবিদ্যায় স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি সম্পূর্ণ করেন।
বাইডেন নাসাকে সম্বোধন প্রকাশ করে বলেন, “আপনারা যা করেছেন তা আমেরিকান জনগণের আস্থা আরও বাড়িয়েছে। তারা আমাদের সম্পর্কে যা ভেবেছিল তা বৃথা যায়নি। তাদের দেশের মাটির ওপর বিশ্বাস আরোও দৃঢ় হয়েছে, যে দেশের স্বপ্ন তারা দেখেছিল তার রূপকার হয়েছে। আপনারা এটা সফল করেছেন”।
তিনি মোহন কে উদ্দেশ্য করে আরও বলেন, “আমাদের দেশের অগ্রগতির এক অনন্য কারণ হল আমাদের দেশের বৈচিত্র্য, যা দেশকে অগ্রসর করছে”।

শেয়ার করুন

0Shares
0
এখন জ্ঞান বিজ্ঞান সাম্প্রতিক