হিমাচল প্রদেশে গাঁজা চাষকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নীতি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার

হিমাচল প্রদেশে গাঁজা চাষকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নীতি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার

টিম যুগান্তর: হিমাচল প্রদেশে দীর্ঘদিন ধরেই গাঁজা চাষ আইনত বৈধ করার দাবি জানাচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা। রাজনৈতিক দলগুলিও এর স্বপক্ষে মতপ্রকাশ করেছে। তাদের দাবি, হিমাচল প্রদেশের কুলু, মানালি, কসৌল এবং মালানা এলাকায় উৎপাদিত গাঁজা পৃথিবী বিখ্যাত। সেই গাঁজা গাছ থেকে তৈরি চরসও ড্রাগ মাফিয়াদের দৌলতে ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীব্যাপী। আইনি বৈধতা না পাওয়ায় বাড়ছে ড্রাগ মাফিয়াদের চোরা কারবার। তারা মনে করছে, আইনি সম্মতি পেলে ভাবে  ড্রাগ মাফিয়াদের দাপট নিয়ন্ত্রিত হবে। হিমাচলের অনগ্রসর গ্রামীণ অর্থনীতিরও প্রাণ প্রতিষ্ঠা হবে।

গত কয়েকবারের প্রস্তাবের পর আবারও শুক্রবার রাজ্য বিধানসভায় বিজেপি বিধায়ক রমেশ ধওয়ালার উত্থাপিত প্রস্তাবের জবাবে মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর জানিয়েছেন, হিমাচল প্রদেশে গাঁজা চাষকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য নীতি নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করবে রাজ্য সরকার।

ঠাকুর আরও বলেন, আইনসম্মভাবে গাঁজার চাষ হিমাচলের অনগ্রসর গ্রাম্য অধিবাসীদের আর্থিক স্বচ্ছলতা এনে দেবে। ১৯৮৫-এর নারকোটিকস ড্রাগস্ অ্যান্ড সাইকোট্রপিক সাবস্ট্যান্সেস অ্যাক্ট  অনুযায়ী রাজ্যে বৈধভাবে গাঁজার চাষ, উৎপাদন, রক্ষণাবেক্ষণ এবং রপ্তানি করা যাবে। এই অ্যাক্ট অনুযায়ী রাজ্য সরকার গাঁজা চাষ করার আইনি স্বীকৃতিও দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান যে, তিনি নিজেই গাঁজা চাষকে আইনসম্মত করার পক্ষেই মত পোষণ করেন। তিনি নিজেও ২০০৪ সালে এসেম্বলির প্রাইভেট মেম্বার ডে-তে এই প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তৎকালীন সমস্ত রাজনৈতিক দলের বিধায়করা এই প্রস্তাবের সমর্থনে ছিল। আজও সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে।

ঠাকুর এও বলেন, এক দিক থেকে দেখতে গেলে গাঁজার চাষ যুবসমাজকে ধ্বংস করে দিতে পারে আবার সরকারের উপযুক্ত পরিকাঠামো ও নীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। গাঁজা শুধুমাত্র মাদকদ্রব্য হিসেবেই ব্যাবহৃত হয় না, বাজারচলতি বহু নিত্যব্যবহার্য পণ্যেও গাঁজা ব্যবহৃত হয়। শুধু তাই নয় হিমাচলে প্রচলিত অনেক উৎসবে গাঁজার ব্যবহার হয় বহুল পরিমাণে।

তিনি বলেন, ১৯৮৫-এর এনএডিপি অ্যাক্ট কাজে লাগিয়ে গুজরাট, উত্তরাখণ্ডের মতো রাজ্যগুলিতে গাঁজার চাষের বৈধকরণ সম্ভব হয়েছে, মধ্যপ্রদেশ এবং মনিপুরেও গাঁজা চাষের বৈধতালাভ শুধুমাত্র সময়ের অপেক্ষা। হিমাচলের ভৌগোলিক পরিবেশ গাঁজা চাষের পক্ষে সব দিক থেকেই অনুকূল। এমতাবস্থায়, গাঁজা চাষের আইনানুগ সিদ্ধান্ত  হিমাচলের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে অব্যর্থ দাওয়াই হয়ে উঠবে বলেই মুখ্যমন্ত্রীর দাবি।

হিমাচল প্রদেশের মতো জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রে গাঁজার বৈধকরণ প্রক্রিয়া জটিল হতে পারে। দেশি বিদেশি পর্যটক এবং স্থানীয় অধিবাসীরা যাতে এর  অপব্যবহার না করতে পারে তার জন্য সরকারের তরফ থেকে কী ধরনের পরিকল্পনা রয়েছে সেটাই এখন দেখার।

আইনি বৈধতায় গাঁজা চাষ ভারতবর্ষ প্রথম নয়। আমেরিকা, ইউরোপের বিভিন্ন প্রদেশে বিধিনিষেধ মেনে গাঁজার চাষ আইনসম্মত যা শুধুমাত্র ওষুধশিল্পেই ব্যবহৃত হয়।

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং এখন সাম্প্রতিক