বিধানসভা নির্বাচনে কেবল নন্দীগ্রাম থেকে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

বিধানসভা নির্বাচনে কেবল নন্দীগ্রাম থেকে লড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

টিম যুগান্তর: বাংলার মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির দেওয়া চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বিধানসভা নির্বাচনে কেবল নন্দীগ্রাম থেকে লড়বেন। শুক্রবার তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ২৯১টি আসনে প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং― এই তিনটি আসন তৃণমূলের তরফ থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে পাহাড়ে তৃণমূলের জোট প্রার্থীর উদ্দেশ্যে।
বেশ কয়েকজন বিজেপি নেতা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে বলেন নিজের ঘাঁটি দক্ষিণ কলকাতার ভবানীপুরের পরিবর্তে নন্দীগ্রাম থেকে প্রার্থী হিসেবে লড়াই করতে তিনি সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন এবং এই নির্বাচনে তিনি নন্দীগ্রামের প্রার্থী হিসেবে লড়াই এ মাঠে নামছেন। এই নন্দীগ্রাম এবং সিঙ্গুরের মাটিতে গণআন্দোলনের মাধ্যমে ২০১১ সালের বিধানসভা ভোটে ৩৪ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, ফলে এই মাটি তাঁর রাজনৈতিক ক্ষেত্রে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রবীণ মন্ত্রী শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় এই নির্বাচনে ভবানীপুরে তৃণমূলের প্রার্থী মনোনীত হয়েছেন এবং তাঁর পূর্বতন নির্বাচন কেন্দ্র দক্ষিণ কলকাতার রাসবিহারীতে তাঁর পরিবর্তে মনোনীত হয়েছেন কাউন্সিলর দেবাশীষ কুমার।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “আমি কেবল নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, আমি আমার প্রতিশ্রুতি রাখছি।” তিনি এই নির্বাচনকে “কঠিন” বলতে অস্বীকার করেছেন, তাঁর মতে এই নির্বাচন “হাসিখুশি” হবে এবং আরও বলেন, “খেলা খেলা, দেখা হবে, জেতা হবে।” তাঁর কথায়, “বাংলা এই রাজ্যের মানুষের দ্বারা পরিচালিত হবে, কোনও বহিরাগত গুন্ডাদের দ্বারা নয়।”
মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসকে পুনঃমনোনীত করা হয়েছে টালিগঞ্জ নির্বাচন কেন্দ্রে।
২০১৬ সালের নির্বাচন তালিকার সাথে ২০২১ সালের নির্বাচন তালিকার বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। ১১৪ জন নতুন নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে যার মধ্যে বেশ কয়েকজন টলিউড অভিনেতা ও অভিনেত্রীর নাম ও প্রাক্তন ক্রীড়াবিদের নাম রয়েছে। ২৮জন বিধায়ক সহ ৫জন মন্ত্রীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে যার মধ্যে রয়েছেন বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার সোনালী গুহ, রাজ্যের মন্ত্রী বাচ্চু হাঁসদা, প্রাক্তন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও রবিরঞ্জন চ্যাটার্জী এবং প্রবীণ বিধায়ক জোটু লাহিড়ী, সমীর চক্রবর্তী, স্মিতা বক্সী, মালা সাহা, অমল আচার্য ও ব্রজ মজুমদার সহ বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ। এদের মধ্যে কয়েকজন মন্ত্রী যেমন অমিত মিত্র ও পূর্ণেন্দু বোসকে রাজ্যের আইন পরিষদে স্থান দেওয়া হতে পারে তবে বেশিরভাগ মন্ত্রী ও বিধায়কদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও জেতার সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তৃণমূলের ওপরমহলের তরফে খবর।
ভবানীপুর ও রাসবিহারী ছাড়াও কলকাতার বেশ কয়েকটি আসনে তৃণমূলের তরফে নতুন মুখ মনোনীত করা হয়েছে। তৃণমূলের পক্ষে শোভন চট্টোপাধ্যায় দু’বার জিতেছে যে কেন্দ্রে অর্থাৎ বেহালা পূর্বে, সেখান থেকে রত্না চ্যাটার্জীকে মনোনীত করা হয়েছে। “তিনি মহিলাদের পক্ষে লড়াই করবেন”, বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। অতীন ঘোষ, দেবাশীষ কুমার ও দেবব্রত মজুমদার – কলকাতা পুরসভার প্রশাসক মণ্ডলির সদস্য, যথাক্রমে কাশিপুর-বেলগাছিয়া, রাসবিহারী এবং যাদবপুর থেকে মনোনীত হয়েছেন। জোড়াসাঁকো থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন এক সংবাদপত্রের মালিক তথা সম্পাদক বিবেক গুপ্ত। একজন প্রবীণ নেতার কথায়, “প্রবীণ এবং নতুন মুখ দেখা যাবে এইবারের নির্বাচনে যা নিতান্তই একটা সেরা পদক্ষেপ।”

নতুন মুখগুলির মধ্যে অনেকগুলি মুখই হলো মহিলাদের। পঞ্চাশজন মহিলা তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন, শোবিজ থেকেও অনেকে রয়েছেন। এইবারে মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা ৩৫ যা ২০১৬ সালের(৫৭) চেয়ে কম। তফশিলি জাতি ও উপজাতির জন্য যথাক্রমে ৭৯ টি ও ১৭ টি আসন সংরক্ষণ করা হয়েছে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিশ্বস্ত সৈনিকের দল অর্থাৎ পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ ববি হাকিম, সুব্রত মুখোপাধ্যায়, অরূপ বিশ্বাস, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, ব্রাত্য বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের মতো প্রভাবশালী ও পরিচিত নেতা নেত্রীরা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, “আমি হেমন্ত সোরেনের ফোন পেয়েছি। তিনি তার সমর্থনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়েছেন। আমি শরদ পওয়ারজী, উদ্ধব ঠাকরেজী, তেজস্বী যাদব এবং অখিলেশ যাদবকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই। তেজস্বী (প্রচারের জন্য) আসার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অরবিন্দ কেজরিওয়ালও বন্ধুত্বের প্রদর্শন দেখিয়েছেন।”
সব মিলিয়ে রাজ্যে এখন ভোটের হাওয়া। এই নতুন সাজসজ্জার ফল কী হতে চলেছে তার দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক