কারাগারে ভগৎ সিংয়ের বলা শেষ কিছু কথা

কারাগারে ভগৎ সিংয়ের বলা শেষ কিছু কথা

টিম যুগান্তর: নির্ভীক, নিঃস্বার্থ এবং বিপ্লবী – এই শব্দগুলি শহীদ ভগত সিংকে ব্যাখ্যা করার জন্য যথেষ্ট নয়, তবে এই বিশেষণগুলি তাঁর চরিত্রকে কিছুটা হলেও ফুটিয়ে তুলবে।
ভারতের অন্যতম মহান মুক্তিযোদ্ধা ভগত সিং, যিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেছিলেন। তিনি তাঁর জীবন সম্পর্কে সামান্যতম চিন্তিত ছিলেন না। ভারতকে ব্রিটিশ শাসন থেকে মুক্ত করার বিষয়ে জীবন উৎসর্গ করাও তাঁর কাছে সামান্য বিষয় ছিল। তাই-ই ঘটেছিল।
১৯৩১ সালে আজকের দিনে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে নাটকীয় সহিংসতায় লিপ্ত হওয়ার জন্য ভগত সিং ও তাঁর বন্ধু রাজগুরু এবং সুখদেবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছিল। ভারতের স্বাধীনতা লাভের বিষয়টি তাঁর কাছে এতটাই প্রিয় ছিল যে জাতির মুক্তির উদ্দেশ্যে তিনি হাসিমুখে নিজের জীবন বিসর্জন দিতেও পিছপা হননি।
ফাঁসির নির্ধারিত সময় অর্থাৎ ২৪শে মার্চ সকাল ৬টা থেকে পিছিয়ে ২৩শে মার্চ সন্ধ্যে ৭টা করে দেওয়া হয় কারণ হয়তো ব্রিটিশ সরকার ভীত ছিল যে দেশবাসীর চাপের মুখে পড়ে হয়তো ফাঁসি দেওয়া স্থগিত হতে পারত। মহান মুক্তিযোদ্ধা ভগত সিং জন্মগ্রহণ করেছিলেন দেশের স্বার্থে তাই তাঁর মৃত্যু সম্মানসূচক ও বীরের মতো ছিল। তিনি তুচ্ছ কারণে জীবনত্যাগ করেননি, তাঁর জীবন ত্যাগের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল।
তাঁর বীরত্বের দিকটি সুপরিচিত হলেও তাঁর একটি নরম দিক ছিল যা তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার দিন প্রকাশিত হয়েছিল। ভগত সিংয়ের সহযোগী বীরেন্দ্র তাঁর স্মৃতি স্মরণে ‘ডেসটিনেশন ফ্রিডম’ নামক বইতে কারাগারের প্রধান রক্ষক চরত সিং এবং ভগত সিংয়ের একটি কথোপকথন সম্পর্কে লেখেন যেখানে চরত সিং, ভগত সিংকে জীবনে শেষ বারের মতো ‘ওয়াহে গুরু’-কে স্মরণ করার কথা বলেন এবং ভগত সিং বলেন, “সর্দারজি, আমি সারা জীবনে কখনওই তাঁর নাম নিইনি। আসলে, যখন আমি দেখলাম যে দরিদ্র ও নিপীড়িতরা কীভাবে ভুগছে এবং কষ্ট পাচ্ছে তখন আমি তাকে তিরস্কারও করেছিলাম। এখন যদি আমি তাঁর কাছে প্রার্থনা করি যখন মৃত্যু আমার দিকে তাকিয়ে আছে, তখন তিনি বলবেন এই লোকটি ভণ্ড এবং কাপুরুষ। এই পরিস্থিতিতে আমার প্রার্থনা তাঁর উপর কী প্রভাব ফেলবে? আমি যদি আমার মতামত পরিবর্তন না করি তবে কমপক্ষে তিনি স্বীকার করবেন এই লোকটি সৎ ছিল।”
এই টুকরো ঘটনাগুলি যদি ভগত সিংয়ের চারিত্রিক দিকটি জনসমক্ষে তুলে ধরতে সক্ষম না হয় তবে বোধহয় আর কোনোভাবেই বোঝানো সম্ভব হবেনা তাঁর মানবিকতা ও সততার দিকটি। তিনি জাতির উদ্দেশ্যে মৃত্যুবরণ করতে পিছপা হননি তাই তাঁর অবদান ভারতের তথা সমগ্র বিশ্বের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে আজও উজ্জ্বলভাবে লেখা রয়েছে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
তখন বিবিধ সাম্প্রতিক