ফিল্ম স্টুডিওর বানানো জাল নোট দিয়ে ৫০০ কেজি মাদক কিনল বেঙ্গালুরু পুলিশ

ফিল্ম স্টুডিওর বানানো জাল নোট দিয়ে ৫০০ কেজি মাদক কিনল বেঙ্গালুরু পুলিশ

টিম যুগান্তর: চলতি বছরের সবচেয়ে বড় মাদক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনাটি ঘটেছে ব্যাঙ্গালোরে। ব্যাঙ্গালোর পুলিশ একটি ফিল্ম স্টুডিওর সহায়তায় প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের ৫০০ কেজি গাঁজা সহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে।
এই অভিযানটি বেশ নাটকীয় ভাবেই চালানো হয়। ফিল্ম স্টুডিওটিকে ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ টাকার নকল নোট ছাপার জন্য বলা হয় যার সিরিয়াল নাম্বার গুলি এক হলেও দেখতে আসল নোটের মতোই যা আপাত দৃষ্টিতে বোঝা যাবেনা। এই টাকা দিয়েই ৫০০ কেজি গাঁজা কেনা হবে বলে ঠিক করা হয়।
এই অভিযান বিষয়ক বিশদ বিবরণ দিয়ে বেঙ্গালুরু পুলিশ কমিশনার কমল পান্ত জানান, হোয়াইটফিল্ড বিভাগের কর্মকর্তাদের ওই এলাকায় মাদক সরবরাহ বেশি হওয়ায় বিশদে তদন্ত করতে বলা হয়েছিল। “আমাদের অফিসাররা কিছু গাঁজা ব্যবসায়ীদের সনাক্ত করেছিল, তবে তারা মূল উৎসটি জানতে চেয়েছিল। সুতরাং তারা সরবরাহকারীদের কিছু ছদ্মবেশী পুলিশদের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কথা বলেন।”
শীঘ্রই, একজন গাঁজা সরবরাহকারীকে ক্রেতারূপী ছদ্মবেশী পুলিশদের সাথে পরিচয় করানো হয় যারা সম্ভাব্য “বড় গ্রাহক” হতে পারে বলে তাদের জানানো হয়। প্রথম বৈঠকে সরবরাহকারীরা পুলিশকে জিজ্ঞেস করে যে তারা কত পরিমাণ গাঁজা কিনতে চান। “যেহেতু আমাদের আধিকারিকরা যথাসম্ভব গাঁজা বাজেয়াপ্ত করতে চেয়েছিল, তাই তারা সরবরাহকারীদের জিজ্ঞেস করেছিলো যে তারা কতটা পরিমাণ সরবরাহ করতে পারবে। তারা সরবরাহকারীদের আরও বলেছিল যে অর্থ কোনও সমস্যা নয় এবং তারা এক টন গাঁজা কিনতেও প্রস্তুত। তবে সরবরাহকারীরা কোনোরকম লেনদেনের আগে টাকার বিষয়টি নিয়ে নিশ্চিত হতে চেয়েছিলো”, বলে পান্ত আরও জানান।
ছদ্মবেশী পুলিশ আধিকারিকদের পরবর্তী বৈঠকে ১ কোটি নগদ টাকা নিয়ে যেতে বলা হলে বিরাট অঙ্কের টাকা তাদের পক্ষে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিলো না বিভিন্ন নিরাপত্তামূলক কারণে। তাই, এক্ষেত্রে তারা একটি ফিল্ম স্টুডিওর সহায়তা নেয় এবং তাদের বলে ১ কোটি টাকা মূল্যের ২০০০ টাকার জাল নোট ছাপাতে যা দেখতে আসলের মতো হতে হবে এবং এর ফলে কোনোরকম আইনী ঝামেলার সৃষ্টিও হবেনা বলে জানান তাদেরই একজন আধিকারিক।
জাল মুদ্রায় ভরা একটি গাঢ় বাদামী রঙের স্যুটকেস নিয়ে যাওয়া হয় সরবরাহকারীদের সাথে দ্বিতীয় বৈঠকের সময়। “আমাদের মূল উদ্বেগগুলির মধ্যে একটি ছিল যে সরবরাহকারীরা জাল নোটগুলি খুব ভালো ভাবে দেখবে কিনা কারণ সব নোটগুলির সিরিয়াল নাম্বার একই ছিলো। তবে বৈঠকটি সুষ্ঠুভাবে মেটে এবং তারা ৫০০ কেজি গাঁজা আনতে রাজি হয়”, বলে এক আধিকারিক জানান।
বৈঠকে উল্লিখিত কথা মতো, বৃহস্পতিবার শহরের একটি ট্রাকে করে চালান এসে পৌঁছয়। শুক্রবার সকালে বেঙ্গালুরুর কে.আর পুরমে গাঁজা হস্তান্তরের উদ্দেশ্যে আরও একটি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। “তারা কীভাবে গাঁজা চালান করে সেটাও আমরা জানতে চেয়েছিলাম। তারা চালকের আসনের পেছনে একটি গোপন বগি তৈরি করেছিল এবং ট্রাকের বাকী অংশ অন্যান্য জিনিস দিয়ে ভর্তি করা ছিল”, বলে পান্ত বলেন।
পুলিশ আধিকারিকরা সরবরাহকারীদের আশ্বস্ত করেছিল যে এই লেনদেন বন্ধ পরিবেশে হবে এবং সরবরাহকারীদের কে.আর পুরমের একটি গুদামে আসতে বলা হয়েছিল। একবার তারা এসে লুকোনো গাঁজার হদিস দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশের লোকজন তাদের গ্রেপ্তার করে এবং উদ্ধৃকৃত ৫০০ কেজি গাঁজা হেফাজতে নিয়ে নেয়।
যে তিনজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে তারা হলো, দয়াল রাম (৩৮), পুনা রাম (২৪) এবং বুধা রাম (২৩) এরা প্রত্যেকেই রাজস্থানের বাসিন্দা। কমিশনার আরও জানান, তারা এই ব্যক্তিদের অন্যান্য সহযোগীদের সন্ধানে রয়েছে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
এখন সাম্প্রতিক