বন্ধ হল ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল!

বন্ধ হল ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল!

টিম যুগান্তর: ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল (এফসিএটি) হঠাৎ করেই বিলুপ্ত হওয়ায় চলচ্চিত্র নির্মাতারা অত্যন্ত ক্ষুব্ধ এবং বিপর্যস্ত। ‘সিবিএফসি’ সার্টিফিকেট না দেওয়ায় এখন সরাসরি তাঁদের উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হওয়া ছাড়া আর কোনও গতি থাকলো না।

ফিল্ম ইনফরমেশন সূত্রের খবর, ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনালকে (এফসিএটি) আইন ও বিচার মন্ত্রক আচমকা বিলুপ্ত করে দিয়েছে। চলচ্চিত্র নির্মাতাদের অ্যাপিল শোনার জন্য ১৯৮৩ সালে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ্ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (সিবিএফসি) নামক এই কমিটিটি গঠিত হয়েছিল এবং এটি বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের মুক্তির ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে।

এই আদেশের পরে, সিবিএফসি-র সিদ্ধান্তে হতাশ চলচ্চিত্র নির্মাতাদের এফসিএটির পরিবর্তে সরাসরি উচ্চ আদালতে যেতে হবে অভিযোগের প্রতিকারের জন্য। ফিল্ম সার্টিফিকেশন অ্যাপিলেট ট্রাইবুনাল (এফসিএটি) ১৯৮৩ সালে ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ১৯৫২  সিনেমাটোগ্রাফ আইন, ১৯৫২ এর ধারা ৫ ডি-এর অধীনে একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসাবে গঠিত হয়েছিল যার সদর দফতর ছিল নয়াদিল্লি।

সিবিএফসি ২০১৭ সালে ‘লিপস্টিক আন্ডার মাই বুরখা’ ছবিটিকে অনুমোদন দিতে অস্বীকার করায় পরিচালক অলঙ্কৃতা শ্রীবাস্তব  ২০১৭ সালে এফসিএটি-র দ্বারস্থ হয়েছিলেন। এফসিএটি হস্তক্ষেপের পরে পরিচালককে কয়েকটি সম্পাদনার পরামর্শ দেয় এবং সিবিএফসি-কে ‘এ’ সার্টিফিকেট দেওয়ার নির্দেশও দেয়। পরিচালক অনুরাগ কাশ্যপ ২০১৬ সালে এফসিএটি-তে আবেদন করেছিলেন যখন সিবিএফসি তাঁর ‘উড়তা পাঞ্জাব’ মুক্তির ছাড়পত্র দিতে চাইছিল না। চলচ্চিত্র নির্মাতা পহেলাজ নিহালানির নেতৃত্বে সিবিএফসি আবারও বিকলাঙ্গ প্রমাণিত হয়েছিল যখন নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকি অভিনীত কুশন নন্দীর ‘বাবুমশাই বন্দুকবাজ’-এর মুক্তি আটকে গেছিল। এফএসিটির পরামর্শ অনুযায়ী ৪৮ টি ‘কাট’-এর পরিবর্তে কয়েকটি ছোটখাটো সম্পাদনার পরে ছবিটি ‘এ’ সার্টিফিকেট সমেত মুক্তি পেয়েছিল।

এফসিএটি বিলুপ্তির পরপরই হানসল মেহতা, বিশাল ভরদ্বাজ, গুণীত মোঙ্গা, রিচা চাড্ডার মতো বেশ কয়েকজন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব তাঁদের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেন।

হানসাল মেহতা তাঁর হতাশা প্রকাশ করতে ট্যুইটারকে বেছে নেন এবং এই পদক্ষেপকে “স্বেচ্ছাচারিতা” এবং “নিষিদ্ধ” বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যথেষ্ট যুক্তিসম্মতভাবে প্রশ্ন তুলেছেন, আদৌ উচ্চ আদালতের চলচ্চিত্রের শংসাপত্র সম্বন্ধীয় অভিযোগের সমাধান করার জন্য পর্যাপ্ত সময় আছে কি? কতজন চলচ্চিত্র নির্মাতার পক্ষে আদালতে যাওয়া সম্ভব হবে? এফসিএটির এই  বিচ্ছিন্নতা চলচ্চিত্রনির্মাণ-শিল্পের সীমাবদ্ধতায় পরিণত হল। বর্তমান সময়কে তিনি দুর্ভাগ্যজনক সময় বলেও ব্যাখ্যা করেছেন এবং এই সিদ্ধান্তের সদুত্তর দাবি করেছেন।

প্রযোজক পরিচালক গুণীত মোঙ্গা, যার ‘হারামখোর’-কে ২০১৬ সালে এফসিএটি মুক্তি পেতে সাহায্য করেছিল, তিনিও এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন। পরিচালক বিশাল ভরদ্বাজও সিদ্ধান্তটির বিরোধিতা করেছেন।

“স্ক্যাম ১৯৯২: হর্ষদ মেহতা স্টোরি”-র সহ-পরিচালক জয় মেহতাও  ট্যুইট করে এফসিএটি বিলুপ্তির সমালোচনা করেন। তিনিও হতবাক এটা ভেবে যে, কীভাবে এত বড় একটা সিদ্ধান্ত রাতারাতি নেওয়া যেতে পারে!

শেয়ার করুন

0Shares
0
সংস্কৃতি সাম্প্রতিক