১১ই এপ্রিল থেকে ১৪ ই এপ্রিল সারা দেশ জুড়ে যে টীকা উৎসব, কটাক্ষ করলেন রাহুল

১১ই এপ্রিল থেকে ১৪ ই এপ্রিল সারা দেশ জুড়ে যে টীকা উৎসব, কটাক্ষ করলেন রাহুল

টিম যুগান্তর: প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ১১ই এপ্রিল থেকে ১৪ই এপ্রিল দেশ জুড়ে টীকা উৎসব পালনের ডাক দেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এই উৎসবকে কটাক্ষ করে বলেন যে দেশ জুড়ে ভ্যাকসিনের যে অভাব দেখা দিচ্ছে তা একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা, উৎসব পালনের কারণ নয়। তিনি এর কারণ হিসেবে ভারতের ভ্যাকসিন রপ্তানিকে দায়ি করেন। তিনি বলেন যে রাজ্যগুলিকে ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালন জরুরি। তিনি আরও বলেন, “আমাদের সবাইকে মিলিত হয়ে এই মহামারীর বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।”
বুধবার, মহারাষ্ট্র সরকারের তরফ থেকে জানানো হয় যে তাদের ভ্যাকসিনের স্টক খুব শীঘ্রই শেষ হয়ে যাবে। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ হর্ষ বর্ধন অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে মহামারী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে রাজ্যের ব্যর্থতার দরুন এই ধরনের কথা বলছে মহারাষ্ট্র সরকার।
ভ্যাকসিনের ঘাটতি নিয়ে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র বনাম অবিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির মধ্যে বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে কারণ মহারাষ্ট্র ও ছত্তিশগড়ের নেতারা অভিযোগ করেছেন যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই দুটি রাজ্যকে ভ্যাকসিন প্রদানের ক্ষেত্রে বঞ্চিত করছেন কারণ এই দুটি রাজ্যে বিজেপির সরকার দ্বারা শাসিত নয়।
মহারাষ্ট্রের স্বাস্থ্যমন্ত্রী রাজেশ তোপে প্রশ্ন তোলেন যে গুজরাতের জনসংখ্যা এবং মহামারীর সংক্রামিতের হার মহারাষ্ট্রের চেয়ে কম হওয়া সত্ত্বেও কেন গুজরাত এবং মহারাষ্ট্রের জন্য সম পরিমাণ ভ্যাকসিন বরাদ্দ করা হয়েছে। যদিও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডাঃ হর্ষ বর্ধন জানান যে মহারাষ্ট্র এবং রাজস্থান এই দুই রাজ্যের সংক্রমণের হার বেশি ও এই দুই রাজ্যের জন্যই সবচেয়ে বেশি পরিমাণ ভ্যাকসিন বরাদ্দ করা হয়েছে যখন এই দুই রাজ্য বিজেপি সরকার দ্বারা শাসিত রাজ্য নয়। কাজেই ভ্যাকসিন বণ্টনের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষপাত হওয়ার অভিযোগ তিনি উড়িয়ে দেন।
বৃহস্পতিবার সব রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির মুখ্যমন্ত্রীদের সাথে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আশ্বস্ত করেন যে আতঙ্কিত হওয়ার দরকার নেই কারণ কেন্দ্র ক্রমাগতভাবে ভ্যাকসিন মজুত করবে ফলে ঘাটতি হওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

প্রধানমন্ত্রী দেশের যুবসমাজের উদ্দেশ্যে বলেন যে ১১ই এপ্রিল থেকে ১৪ ই এপ্রিল সারা দেশ জুড়ে যে টীকা উৎসব পালন হবে সেখানে যত বেশি সম্ভব ৪৫ বছরের ঊর্ধ্ব মানুষজনকে টীকার আওতায় আনা যায় তা নজর রাখতে। ১১ই এপ্রিল সমাজ সংস্কারক জ্যোতিরাও ফুলের জন্মবার্ষিকী। কাজেই এই দিনটিকে বেছে নিয়ে টীকা উৎসব শুরুর কথা ভাবা হয়েছে।

শেয়ার করুন

0Shares
0
অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক