অন্য একতারা— ৫

অন্য একতারা— ৫

একেক সময় এমন হয়। কোন একটা সুর এসে কানের কাছে গুনগুন করতে থাকে। চলো চলো। সেই সুরের ভেতর সমস্ত সন্ধ্যা জুড়ে ঘাসের বুকে জ্যোৎস্নার নিঃশ্বাস পড়ে। জলদেবী উঠে আসেন পুকুরের ঘাটে। তাঁর পায়ের কাছে বসে থাকে কাচপোকা । থেকে থেকে মাধবীলতার গন্ধ ওঠে। দুর্লভ এক প্রত্নরহস্যের মতই সেই সুরের ইন্ধন মানুষকে মহাজাগতিক ইশারার দিকে টেনে নিয়ে যায়। শহরের সান্দ্র রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো আঁধারিতে নিষিদ্ধ এক তরুণ ইঙ্গিতের মত দাঁড়িয়ে থাকে কৃষ্ণচূড়া গাছ। অপসৃয়মান মেঘের আকাশে একটি দু’টি করে তারা ফোটে। দূর কোন গ্রহ থেকে ভেসে আসে বিক্রম সিং খাঙ্গুরার রেখে যাওয়া নিরাময়সম্ভাবনাহীন সুরের আঘাত- “কেন মেঘ আসে হৃদয় আকাশে, তোমারে দেখিতে দেয় না মোহমেঘে তোমারে দেখিতে দেয় না/ অন্ধ করে রাখে, তোমারে দেখিতে দেয় না “। আমরা ভাবতে থাকি, কার জন্য এত কষ্ট। কার জন্য? এক অদ্ভুত মোহবর্ণ কুয়াশায় চোখ বুজে আসে। তখন ঈশ্বর ভাবি বা প্রেম, ধর্মের আলোটুকু ধরি অথবা অন্ধকার, সুর আমাদের এই জগতের ভালো-মন্দের সীমানা পার করে অন্য এক কক্ষপথে স্থাপন করে, যেখানে সুর ও শব্দের শীতল আগুনে পুড়ে যেতে যেতে আমরা গ্রহাণুপুঞ্জের মত গানটিকে পরিক্রমা করতে থাকি। এভাবেই একসময় গান এবং আমাদের অস্তিত্ব একাকার হয়ে যায়। প্রতি রোম কূপে আমরা অনুভব করি নক্ষত্রজন্মের বিভা।

সুর আসলে একটি বিশ্বাসঘাত। বেঠোভেনের মুনলাইট সোনাটা যে শোনে, রবীন্দ্রনাথের ‘আজি ঝড়ের রাতে তোমার অভিসার’ যে শোনে, সে মফস্বলের আধচেনা রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকুক বা শহরের ধূসর ধুলো-আবাসে, কী যে তাকে ভাসিয়ে নিয়ে যায়! অন্ধকার সমুদ্রের ফুলে ফুলে ওঠা ঢেউয়ে নৌকার মতো ভেতরে ভেতরে ভেঙে চুরমার হতে হতে এক সময় সে নিজের অস্তিত্ব হারিয়ে ফেলে।

“There’s a crack in everything that’s how the light gets in. ”

এই চুরমারের ভেতর দিয়েই তো আলো এসে স্পর্শ করে তাকে।


প্রকৃতি দয়ার কথা বলে, ক্ষমার কথা বলে, অবাধ স্নেহের কথা বলে। আমরাই প্রকৃতিকে অনুধাবন করতে শিখি না। সময় যেমন আমাদের জীবনের চিহ্ন রেখে যায়, আমরাও চিহ্ন রাখি সময়ের শরীরে। তার কিছুটা হয়তো অপসৃত হয়, বাকিটুকু থেকে যায় ভাষায় এবং যাপন রীতিতে, লোকসাহিত্যে, সুরে, কবিতায়।

মনে পড়ে, বহুবছর আগে শোন নদীর উৎস দেখতে গিয়েছিলাম। শীতের মরশুম মানে বাসা ছেড়ে বেরিয়ে আসা রঙিন খরগোশের মতো পথঘাট ছেয়ে ফেলা লাল নীল পশমি মানুষ। তাদের কথা ও পোশাকের নানাবিধ রঙের আক্রমণে ভ্রমণের উদ্দেশ্য যখন প্রায় ভুলতে বসেছি, ঠিক তখনই সমস্ত রং আর শব্দের ষড়যন্ত্রকে এলোমেলো করে দিয়ে এক আশ্চর্য বাঁশি বেজে উঠল। মনে হল যেন বিকেলের মৈকাল পাহাড়ে কোথাও কেউ নেই, আমি একা, আর সেই সুর একটা তুমুল উদ্দাম ঘোড়ার মত আমার দিকে ছুটে আসছে। তার নিঃশ্বাসের হলকায় যখন আমি প্রায় উড়ে যাব, ঠিক তখনই সুরটি এসে যেন আমার মুখোমুখি দাঁড়াল। পা ঠুকতে লাগলো কয়েক মুহূর্ত। আচমকাই শিকারি ঈগলের মতো উঠে গেল তার সপ্তকে। তারপর চক্রাকারে ঘুরতে থাকলো মাথার উপর। সুরের ভিতর যে এত তড়িৎ বিন্যাস থাকতে পারে, এত দিশাহারা করে দেওয়া আক্রমণ থাকতে পারে, আমি তা আগে অনুভব করিনি। সুরের খোঁজে প্রায় শ’খানেক সিঁড়ি ভেঙে উঠে পড়লাম উদভ্রান্তের মত। দেখি, একটি ধূলিমলিন ধাপে বসে এক বিরল-যৌবন পুরুষ তার আশ্চর্যদর্শন বাঁশিতে সুর তুলছেন। শুধুই কি বাঁশি বলা যায় তাকে? একদল বাঁশি যেন শরীরের শরীর জুড়ে আদিম কোনও উৎসবে মেতেছে। আমি তাকে হিন্দিতে জিজ্ঞেস করলাম “চাচাজি! ইস বাঁসুরিকো ক্যা কহতে হ্যাঁয়?” বাইগা বৃদ্ধ মাথা ঝুঁকিয়ে তার নিজস্ব টানে বলল- ” বেটি, ইয়ে ভগবানকা অপনা বাঁসুরি হ্যায়। যব উয়ো গাইকো চরানে লে যাতে থে, তব ইয়ে বাঁসুরি বজাতে থে”। আমি অবাক হলাম। “পর চাচাজি! কিসন ভগওয়ানকে হাথোঁ মে যো বাঁসুরি হ্যায়, উয়ো এয়সা তো নহি দিখতা!”
বাইগা বৃদ্ধ মাথা নেড়ে বললেন, “নহি নহি! ইয়ে উসসে ভি পহেলেকি বাত হে”। বৃদ্ধ আপন-মনে বলতে থাকলেন,- অনেক দূরের এক দ্বীপে যেখানে সমুদ্র এসে মাটির পা ধুইয়ে দিয়ে যেত, সেখানে একদিন রাখালদের দেবতার সঙ্গে জলপরীর দেখা হয়েছিল। পরীর রূপে মুগ্ধ রাখালদের সেই দেবতা তার আঙুল স্পর্শ করতেই পরী দেবরাজের শরণ নিলেন। দেবরাজের জাদুতে পরী নলখাগড়ার বনে রূপান্তরিত হলেন। প্রেমে ব্যর্থতায় দিশাহারা রাখাল দেবতা ক্ষোভে দুঃখে সেই সব নল খণ্ড খণ্ড করে ভেঙে ফেললেন। কিন্তু পরক্ষনেই অনুশোচনা এসে গ্রাস করল তাকে। ভাঙা নলগুলো পরম আদরে ঠোঁট দিয়ে স্পর্শ করলেন তিনি। অমনি আশ্চর্য এক জাদু হলো। ঠোঁটের ছোঁয়া লাগতেই নলের শরীর থেকে উথলে উঠলো এক মোহময় সুর। সেই সুরের মাতন লেগে সমুদ্র ফুলে উঠল চাঁদের কাছাকাছি। চাঁদের বুক ধোয়া সেই ঢেউ এসে সমস্ত দ্বীপ ডুবিয়ে দিয়ে গেল জলের গর্ভে । সাতদিন সাতরাত পরে যখন সেই জল নামল, তখন গাছে গাছে অকাল বসন্তের ছোঁয়া লেগেছে। রঙিন ফড়িংয়ের দল মেতে উঠেছে গ্রীষ্মের গানে।


কোহেনের কবিতায় কোহেন ঈশ্বরকে বলেন, যখন তুমি প্রিয় নারী হয়ে আমার সঙ্গে ছিলে, তখন তোমার অপার সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হয়ে ছিলাম। যখন সুর হয়ে এলে এলে, তখন তোমার সৌন্দর্য ভাসিয়ে নিয়ে গেল। শুধু ঈশ্বর রূপে তুমি সেই সৌন্দর্যে পৌঁছাতে পারলে না। প্রেমে যতদিন সত্য থাকে, ততদিনই তার সৌরভ। সুরের ভেতর যদি মিথ্যা ঢুকে পড়ে, ঈশ্বর আর গায়ককে স্পর্শ করতে পারেন না।

বৃদ্ধের গল্প শেষ হতে দেখি, সেই গল্পের টানে ততক্ষণে আমার আশেপাশে রঙিন উষ্ণতা ভিড় করে এসেছে। মন তখন এক নরম আলোয় ভরে আছে। ভাবলাম, সব প্রেমই যদি সফল হত, পৃথিবী বঞ্চিত থেকে যেত অসাধারণ সব সৃষ্টি থেকে। সারা পৃথিবী যে সুরের পাগল, সেই সুরে লেখা আছে কবেকার কোন এক রাখালের নাম। হয়তো বা কোন এক জেলে রমণীর শরীরের সুবাস। যে প্রেম মিলন বর্জিত, হাজার হাজার বছর ধরে তাতে না পাওয়ার আর্তি লেগে থাকে।
বাতাসে বাতাসে ঘাসে ঘাসে সেই প্রেমের শিশিরবিন্দু টলমল করে। কত শত রাত জাগা হাওয়ার ভেতর থরথর প্রেমিকের নিঃশ্বাসের সুবাস হয়ে থাকে।

লেখার টেবিলের গায়ে অবিচ্ছেদ্য টেবিল ল্যাম্প এর মতোই প্রেমের প্রসঙ্গ এলেই কোহেনের ‘দ্য চেঞ্জ’ কবিতাটি মনে পড়ে।

তোমাকে কোনওদিন কারো হাতে দিতে পারতাম না। কোনও দোয়েল পাখির বিনিময়ে না,
কোনও বসন্তবৌরির বিনিময়েও না।
আমার সুর নিয়ে চলে গেছ তুমি।
আমার জিভ ভোঁতা করে দিয়ে শুধুই শোনার জন্য বসিয়ে রেখেছ।
কে যেন দুই হাতে একটা বিরাট পিয়ানো বাজাচ্ছে।
কে যেন তার রাখালের কানে ফিসফিস করে বলছে গোপন কথা। জানো! চামড়ার সেই লম্বা জুতোজোড়া পরা হয়নি আমার।
আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠিনি কখনও, দুর্বলতারও নয়।
সেই যে সেই মেয়ের সঙ্গে আমার ঝগড়া বাঁধিয়ে দিলে, তারপর কী অবলীলায় আমাকে বললে –
এটা নাকি আমার কণ্ঠস্বর, আমারই কথা।
অথচ এক সময় তুমি চাঁদকেও অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে বসিয়ে দেখিয়েছিলে, ও কত বেশি সুন্দর
তারপর ওর সেই সৌন্দর্যকেও ম্লান করে দিলে।
আমার আর খামার তৈরি করা হল না।
কিড মার্লের সঙ্গে ঘোড়ায় চড়ে ছিলাম।
সেও তো মাত্র একবার
কে যেন সেই পুরনো অ্যাকর্ডিয়নে চাপ দিল
ওমনি ওরা মেতে উঠল জাতীয় নৃত্যতে
ওদের চারদিকে এসে জড়ো হল দেশপ্রেমিকেরা।
মাননীয়েষু, তোমায় বলি-
তুমি নারী রূপে বড় সুন্দর ছিলে।
সংগীত রূপেও বড় সুন্দর ছিলে
ঈশ্বরের রূপে তুমি নিতান্ত কুরূপ, বেমানান।

‘দ্য চেঞ্জ’ শুরু হয় প্রেমের কবিতার ধরণে। নিবিড় প্রেম যেমন ধীরে ধীরে বদলে যেতে যেতে ক্রমশ অভিযোগের কাহন হয়ে ওঠে, এই কবিতাটির আঙ্গিকও ঠিক তেমন। তবে এখানেই এর ব্যপ্তি শেষ হয়ে যায় না। কোহেনের অন্যান্য অনেক কবিতার মতোই আধ্যাত্মিক চেতনা এই কবিতার অন্যতম সত্তা। এই কবিতায় যে কিড মার্লের কথা পাওয়া যায়, তিনি গায়ক মার্লে নন। এই কিড মার্লে কোহেনের পরিচিত একজন অশ্ব ব্যবসায়ী, কাউ বয়। ষাটের দশকের শেষদিকে কবি তার কাছ থেকে একটি রুগ্ন ঘোড়া কিনেছিলেন। এই কবিতায় সেই অশ্ব ব্যবসায়ী অমর হয়ে রইলেন।

কোহেনের সংগীতজীবনের শুরু ‘বাকস্কিন বয়েজ’ নামক এক কান্ট্রি ব্যান্ডের হাত ধরে। তখন তিনি ছাত্র। সবেমাত্র অ্যাকুস্টিক গিটার ছেড়ে ঐতিহ্যময় ফ্ল্যামেংকো স্টাইলের দিকে ঝুঁকেছেন। ন্যাশভিল বরাবরই কান্ট্রি মিউজিকের পীঠস্থান। ১৯৬৬ সালে যখন কোহেন গীতিকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন, তখনও তার ইচ্ছা ছিল ন্যাশভিলে গিয়ে কান্ট্রি মিউজিকের জন্য গান লিখবেন। কিন্তু বিধিলিপি অন্যদিকে মোড় নিল। কান্ট্রি মিউজিকের বদলে কোহেন শেষ পর্যন্ত ঝুঁকলেন ফোক মিউজিক এর দিকে। ভাগ্যিস ঝুঁকলেন! আমেরিকান ফোক এবং সফট রক কোহেনকে বাদ দিয়ে কি ভাবা যায়?
মানুষ যে শেষ পর্যন্ত কোন পথ বেছে নেবে, সে তো আগে থেকে জানতে পারে না। যে পথ তাকে টান দেয়, কেন দেয়? এইসব ভাবলে মনে প্রশ্ন জাগে, এক জন্মে আমরা ঠিক কতজন্ম বেঁচে থাকি? এক মুহূর্তে? এই একটি জীবনে অজস্র জন্মের ছাপ বয়ে চলি আমরা, পরম্পরা বয়ে নিয়ে চলি। শুধুই কি রক্তের পরম্পরা?যাপনের, দর্শনের, শ্রবণের পরম্পরা নয়? যে ভাষা জানি না, তার সুর তবে স্পর্শ করে কেন? মৈকাল পাহাড়ে বসে বাঁশি বাজানো সেই দেহাতি বৃদ্ধের সুরের সঙ্গে দক্ষিণ আমেরিকার কোনও আদিবাসী যুবকের সুর ওতপ্রোত মিলে যায় কোন জাদুতে? ইউটিউব বা গুগলহীন জমানায় এক দরিদ্রতর বৃদ্ধ ভারতীয় কত জন্ম পাড়ি দিয়ে সেই সুর খুঁজে আনে?

সুর আদতে এক আশ্চর্য সত্য। তাই তা স্পর্শ করে এত অবাধে। প্রেম সত্য, তাই সে ঈশ্বর। যখন রবীন্দ্রনাথের প্রেম পর্যায়ের গান শুনি, তখন সন্দেহ হয়- তিনি কি ঈশ্বরের কথা বলছেন? যখন পূজা পর্যায়ের গান শুনি, তখন তা প্রেমের মতো ফোটে। কোহেনের কবিতায় কোহেন ঈশ্বরকে বলেন, যখন তুমি প্রিয় নারী হয়ে আমার সঙ্গে ছিলে, তখন তোমার অপার সৌন্দর্যে আমি মুগ্ধ হয়ে ছিলাম। যখন সুর হয়ে এলে এলে, তখন তোমার সৌন্দর্য ভাসিয়ে নিয়ে গেল। শুধু ঈশ্বর রূপে তুমি সেই সৌন্দর্যে পৌঁছাতে পারলে না। প্রেমে যতদিন সত্য থাকে, ততদিনই তার সৌরভ। সুরের ভেতর যদি মিথ্যা ঢুকে পড়ে, ঈশ্বর আর গায়ককে স্পর্শ করতে পারেন না।
এই কবিতার কোথায় যেন কোহেন ও রবীন্দ্রনাথ মিলেমিশে এক হয়ে যান। প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দর্শনের আর কোনো বিভেদ থাকেনা। সত্যকে উপলব্ধি করলে ঈশ্বরকে উপলব্ধি করলে ধর্মে ধর্মেও কি বিভেদ থাকে? ধর্ম ধারণ করে। আমরা যত তাকে বর্জন এর হাতিয়ার করে তুলি, ধর্ম আমাদের কাছ থেকে তত দূরে চলে যায়। ধর্ম যদি ঈশ্বরগামী পথ হয়, সুরও ঈশ্বরগামী। বিভেদের ধর্ম ঈশ্বরের বিপরীতে হাঁটে। ধর্মই যদি মানবো, তবে প্রকৃতির ধর্ম বিস্মৃত হই কেন? প্রকৃতি দয়ার কথা বলে, ক্ষমার কথা বলে, অবাধ স্নেহের কথা বলে। আমরাই প্রকৃতিকে অনুধাবন করতে শিখি না। সময় যেমন আমাদের জীবনের চিহ্ন রেখে যায়, আমরাও চিহ্ন রাখি সময়ের শরীরে। তার কিছুটা হয়তো অপসৃত হয়, বাকিটুকু থেকে যায় ভাষায় এবং যাপন রীতিতে, লোকসাহিত্যে, সুরে, কবিতায়।

(ক্রমশ)

আগের পর্ব পড়তে এখানে ক্লিক করুন

শেয়ার করুন

0Shares
0
অন্য একতারা যুগান্তর Exclusive