সাইকেলে চড়ে গোটা বিশ্ব ঘুরে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াচ্ছেন অনির্বাণ আচার্য

সাইকেলে চড়ে গোটা বিশ্ব ঘুরে ক্যান্সার সচেতনতা বাড়াচ্ছেন অনির্বাণ আচার্য

৩রা জুন বিশ্ব বাইসাইকেল দিবস উপলক্ষ্যে সাইকেল নিয়ে বিশ্বভ্রমণে বেরোনো অনির্বাণ আচার্যের সঙ্গে আলাপচারিতা করলেন সৌম্যজীৎ চ্যাটার্জী। 

ছোটবেলায় স্কুলে পড়ার সময় থেকেই অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের সাথে যুক্ত ছিলেন অনির্বাণ। সেই সময়েই বেশ কিছু ভ্রমণকাহিনীমূলক বইপত্র হাতে পান। তার পর থেকেই সাইকেল নিয়ে বিশ্বভ্রমণের ইচ্ছা জাগে তাঁর মনে। একটু বয়স বাড়ার সাথে সাথেই ‘বাংলা সাইকেল’ নিয়েই কলকাতার কাছাকাছি পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে ঘুরতে যাওয়া শুরু হয়। একইসাথে বিভিন্ন দেশে ঘুরতে যাওয়ার নিয়ম-কানুন সম্পর্কে পড়াশোনাও চলতে থাকে।

এরপর ২০১৫ সালে শুরু করে প্রায় দেড় বছর ধরে সাইকেল নিয়ে গোটা ভারতে ঘুরে বেড়ান। এরপর তিনি শুরু করেন ‘ওয়ার্ল্ড অন হুইলজ্’, অর্থাৎ চাকায় ভর করে, মূলত সাইকেলে চড়ে বিশ্বভ্রমণের উদ্যোগ। এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্যই ছিল অ্যাডভেঞ্চার। একইসাথে আরও একটি উদ্দেশ্য ছিল ক্যান্সার অ্যাওয়ার্নেস বাড়ানো।

ইন্ডিয়া গেটের সামনে, ২০১৫ সালে

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ক্যান্সার হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম মারনরোগ। তাই কী রকম জীবনশৈলী অবলম্বন করে ক্যান্সারকে দূরে রাখা সম্ভব তা সারা পৃথিবী ঘুরে যতবেশি সম্ভব মানুষকে বোঝানোর চেষ্টা শুরু করেন অনির্বাণ। দেশে ঘোরার সময়ও প্রতিদিন তিন-চারটি করে স্কুলে পৌঁছে গিয়ে সেখানকার ছাত্রছাত্রীদের কাছে ক্যান্সার বিষয়ক সচেতনতা ছড়িয়ে দেন।

আমেরিকায় সুনীল গাভাস্কারের সাথে

ভারত ভ্রমণের পর অনির্বাণ সাইকেল নিয়ে পৌঁছে যান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায়। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম ঘুরে তিনি আবার দেশে ফিরে আসেন। এরপর ২০১৯ সালে আরো বড়ো সফরের স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি দেন সুদূর আমেরিকায়। প্রথমে ক্যালিফোর্নিয়া পৌঁছোন। সেখান থেকে দু’চাকায় ভর করে আমেরিকার সবচেয়ে কঠিন রেস- ‘রেস অ্যাক্রস অ্যামেরিকা’র র‍্যুট ধরে লস অ্যাঞ্জেলস, অ্যারিজোনা, টেক্সাস, নিউ মেক্সিকো, কলোরাডো, ক্যান্সাস ঘুরে ইউএসের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসি পর্যন্ত পৌঁছে যান। এরপর ভিসা-জনিত কিছু সমস্যার জন্য নিউইয়র্ক হয়ে লাতিন আমেরিকা চলে যেতে হয়।

কলোম্বিয়ায় অনির্বাণ

লাতিন আমেরিকার প্রথম ডেস্টিনেশন কলোম্বিয়া পৌঁছোনোর পর বাধ সাধলো করোনাভাইরাস। করোনা অতিমারীর কারণে সেইসময় আমেরিকা জুড়ে শুরু হয় লকডাউন। বন্ধ করে দেওয়া হয় আন্তর্জাতিক সীমারেখাগুলি। কলোম্বিয়া থেকে পেরু হয়ে আর্জেন্টিনার দিকে যাওয়ার লক্ষ্য ছিল। কিন্তু প্রায় একবছর কলোম্বিয়ায় আটকে থাকার পরও আন্তর্জাতিক বর্ডার খোলার কোনও সম্ভাবনা না দেখে হতাশ হয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে কলকাতা ফিরে আসেন অনির্বাণ।

আপাতত, করোনা পরিস্থিতিতে পরবর্তী সফরের কোনও পরিকল্পনা করতে পারছেন না। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার সাইকেল নিয়ে বিদেশবিভুঁইয়ের উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়ার ব্যাপারে আশাবাদী অনির্বান।

অনির্বাণের মতে, “সাইকেল একটা অসাধারণ মোড অফ ট্রান্সপোর্ট। এবং এই সময়ে সারা বিশ্বের মানুষ বুঝতে পারছে সাইকেল কতোটা দরকারী। কারণ এটা খুব বেশি খরচ সাপেক্ষ নয়। আর সাইকেল চালালে শরীর-মন ভালো থাকে, পাশাপাশি পরিবেশকেও দূষিত করছে না। এছাড়া, গাড়ি-ঘোড়ার ফলে যে হারে ট্রাফিক জ্যাম হয়, সেদিক থেকেও সাইকেল আমাদের রক্ষা করছে।” তাই অনেক উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও বড়ো রাস্তাগুলোর সাথে সাইকেল লেন বানানোর ব্যাপারে সরকারের নজর দেওয়া দরকার মনে করেন অনির্বাণ।

শেয়ার করুন

0Shares
0
পায়ের তলায় সর্ষে বিবিধ সাম্প্রতিক